kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

তদন্তে গ্যাসলাইনে ত্রুটি পায়নি কেজিডিসিএল

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তদন্তে গ্যাসলাইনে ত্রুটি পায়নি কেজিডিসিএল

চট্টগ্রাম নগরীর পাথরঘাটায় বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্যাস পাইপলাইনে কোনো লিকেজ পায়নি কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)। গ্যাসলাইনের কোনো সমস্যা থেকে বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়নি উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কেজিডিসিএল গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটি।

তবে জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি গতকাল সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। একই সঙ্গে পুলিশের একটি তদন্তদল ঘটনা অনুসন্ধানে কাজ করছে। প্রাথমিক তদন্তে তারা এ ঘটনায় নাশকতা-সংশ্লিষ্টতার কোনো আলামত পায়নি। পৃথকভাবে পেট্রোবাংলার পরিচালক কামরুজ্জামানও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এদিকে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় অবহেলাজনিত মৃত্যু ও ক্ষতিসাধনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া মামলাটির বাদী ওই ঘটনায় নিহত রিকশাচালক মাহমুদুল হকের স্ত্রী শাহীনা আক্তার।

কেজিডিসিএল গঠিত কমিটির প্রধান সারোয়ার হোসেন গতকাল কালের কণ্ঠকে জানান, প্রাথমিক তদন্ত শেষে গত রবিবার সন্ধ্যায় জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান, পরিচালক (অপারেশন) ও কেজিডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। দুই পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গ্যাসের লাইন থেকে বিস্ফোরণ হয়নি। তবে সেপটিক ট্যাংকের গ্যাস থেকেও বিস্ফোরণ হতে পারে।

বিস্ফোরণের কারণ জানতে চাইলে সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের তদন্তে গ্যাসের লাইনে কোনো লিকেজ পাওয়া যায়নি। গ্যাসের লাইন ও রাইজার অক্ষত পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসার রান্নাঘরে চুলার সঙ্গে সংযোগ লাইনও অক্ষত পাওয়া গেছে। রান্নাঘরে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ হলে রান্নাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হতো। কিন্তু তা হয়নি। রান্নাঘরের পাশে আরেকটি কক্ষে বিস্ফোরণ হয়েছে, যার নিচে সেপটিক ট্যাংক রয়েছে। এতে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে গ্যাসের লাইন থেকে বিস্ফোরণ হয়নি।’

দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়া প্রসঙ্গে সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘দুর্ঘটনার পরপরই আমরা তদন্ত শুরু করেছি। আর যেহেতু গ্যাস বিস্ফোরণের কথা বলা হচ্ছে তাই আমরা গ্যাসলাইন, রাইজার, অভ্যন্তরীণ পাইপলাইন, চুলা সবই যথাযথভাবে পরীক্ষা করে দ্রুত প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। মন্ত্রণালয় অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিলে আমরা তা করব।’

কেজিডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খায়েজ আহম্মদ মজুমদার গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের দেড় লাখ আবাসিক গ্রাহকের রাইজার আমরা পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা করে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা মনে করি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে দুর্ঘটনার হার কমে যাবে।’

এদিকে জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এ জেড এম শরিফ হোসেনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি দল গতকাল বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শন করে। তদন্ত কমিটিতে নতুন করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।  

পরিদর্শনকালে এ জেড এম শরিফ হোসেন বলেন, ‘গ্যাসলাইন থেকে, নাকি সেপটিক ট্যাংক থেকে গ্যাস বিস্ফোরণ হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নাশকতার কোনো বিষয় ছিল কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

এদিকে ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পক্ষ থেকেও তিন সদস্যের একটি কমিটি কাজ করছে। সিএমপির উপকমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কমিটির সদস্যরা বলেন, ‘তদন্তকালে আমরা নাশকতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছি। তবে এমন কোনো আলামত মেলেনি।’

মামলা : গতকাল দায়ের হওয়া মামলার আসামিদের বিষয়ে পুলিশ নীরব। জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু ও ক্ষতিসাধনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের সম্পর্কে এ মুহূর্তে কিছু বলা যাবে না।’ তবে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, মামলায় ভবন মালিক দুই সহোদর অমল বড়ুয়া ও টিটু বড়ুয়ার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার সকালে নগরীর কোতোয়ালি থানার পাথরঘাটা ব্রিক ফিল্ড রোডে বড়ুয়া ভবন নামে একটি পাঁচতলা বাড়ির নিচতলায় বিস্ফোরণে দেয়াল বিধ্বস্ত হয়। আশপাশের আরো কয়েকটি বাসা ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণে নারী, কিশোরসহ সাতজন নিহত হয়। আহত হয় কমপক্ষে ১০ জন। হতাহতরা সবাই পথচারী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা