kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

ঘর হলো সেই জান্নাতুলের

ফিরোজ গাজী, যশোর   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘর হলো সেই জান্নাতুলের

অবশেষে নতুন ঘর পেয়েছে বাবার সঙ্গে ইজি বাইকে যশোর শহরময় ঘুরে বেড়ানো ছয় বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়া। যশোর জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ গতকাল বিকেলে জান্নাতুল ও তার বাবা মুরাদুর রহমান মুন্নার হাতে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন।

যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের মণ্ডলগাতী গ্রামে মুরাদুর রহমান মুন্নার নামে বরাদ্দ পাঁচ শতক খাসজমিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অর্থায়নে টিনশেডের ঘরটি তৈরিতে খরচ হয় এক লাখ টাকা। ঘরের চাবি দেওয়ার পর জেলা প্রশাসক জান্নাতুলের দিকে এলাকাবাসীর সুদৃষ্টি কামনা করেন। তার খোঁজখবর রাখতে অনুরোধ জানান।

নতুন ঘরের চাবি হাতে পেয়ে জান্নাতুলের সে কী আনন্দ। ঘিয়ে রঙের নতুন ফ্রক পরা জান্নাতুল প্রতীকী চাবি হাতে একবার ঘরে আরেকবার বাইরে ছোটাছুটি করছিল অতিথিদের উপস্থিতিতেই। তাঁরা বিদায় নেওয়ার পর কথা হয় জান্নাতুলের সঙ্গে। চোখে-মুখে খুশির ঝলক ছড়িয়ে সে বলল, ‘আমার বাড়ি। আমাদের বাড়ি। এখন থেকে আমরা এখানেই থাকব। ভালো লাগছে। খুব ভালো লাগছে।’ এ কথা বলেই চাবি হাতে আরেক পাশে ছুট দেয় জান্নাতুল।

জান্নাতুলের জন্মের আড়াই বছর পর তাকে রেখে চলে যান তার মা। সেই থেকে বাবার সঙ্গে ইজি বাইকে ঘুরে বড় হচ্ছিল সে। আনন্দ-বেদনা, মান-অভিমান সব ভাগাভাগি তার বাবার সঙ্গে। অন্য শিশুদের এ সময়টা খেলাধুলায় আর বর্ণপরিচয়ে কাটলেও তার দিনের বেশির ভাগ সময় কাটত রাস্তায়। বাবা ব্যাটারিচালিত ইজি বাইকচালক। নিরাপদে দেখে রাখার মতো কেউ না থাকায় ইজি বাইকে বাবার সঙ্গেই দিন কাটত জান্নাতুলের। প্রতিদিনের খাওয়া হোটেলে। আর রাতের ঘুম বাবার সঙ্গে ইজি বাইক চার্জ দেওয়ার গ্যারেজের কোণে। গোসলসহ প্রাকৃতিক কাজ সারতে হতো গ্যারেজ মালিকের বাড়িতে।

মুরাদুর রহমান জানান, তাঁর পারিবারিক অবস্থা একেবারে খারাপ ছিল না। প্রেম করে জান্নাতুলের মাকে তিনি বিয়ে করেছিলেন ৯ বছর আগে। পরিবারের অমতে বিয়ে করায় পৈতৃক বাড়ি ছাড়তে হয় মুরাদকে। তখন তিনি পোশাকে কারচুপির কাজ করতেন। পরে এর চাহিদা কমায় সংকটে পড়েন তিনি। খাতা, কলম, ব্রাশ কম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি পদে চাকরি নেন। তখন জান্নাতুলেল মা আরেকজনের সঙ্গে চলে যান। মুরাদ কাজে গেলে শিশুটিকে দেখাশোনার জন্য কেউ ছিল না।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি কালের কণ্ঠে ‘ইজি বাইকই ঘর জান্নাতুলের’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেদিনই তৎকালীন যশোর জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল স্থানীয় গ্রামের কাগজ পত্রিকার সাংবাদিক আরিফ হোসেনের মাধ্যমে এ প্রতিনিধির কাছ থেকে জান্নাতুলের বাবার মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। তখনই মুরাদকে তাঁর কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জান্নাতুলের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য তাকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। পরে তিনি বদলি হলে বর্তমান জেলা প্রশাসক ঘরটি দ্রুত দিতে কার্যকর ভূমিকা নেন।

মুরাদুর রহমান বলেন, ‘ঘর পাওয়ায় খুব আনন্দ হচ্ছে। মাওয়াকে নিয়ে ইজি বাইকে বাইকে দিনভর ঘোরার দিন শেষ হলো।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা