kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

গণপূর্তের জমি উদ্ধারে অনাগ্রহী প্রকৌশলী!

সাড়ে ৯ একর জমি দখল করে রেখেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা

বরিশাল অফিস   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গণপূর্তের জমি উদ্ধারে অনাগ্রহী প্রকৌশলী!

বরিশালে গণপূর্ত বিভাগের সাড়ে ৯ একর জমি আওয়ামী লীগ নেতাদের দখল থেকে উদ্ধারে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না নির্বাহী প্রকৌশলী। দখলদারদের উচ্ছেদে কেবল জেলা প্রশাসক বরাবর একটি চিঠি দিয়ে তিনি আর কোনো যোগাযোগ করেননি। গণপূর্ত অধিদপ্তর ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে জমিটির দখলদারদের উচ্ছেদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব দেননি। অন্যদিকে, দখল হওয়া ওই জমিটি জেলা প্রশাসকের সহায়তায় লিজে বরাদ্দ নেওয়া হচ্ছে—এমন দাবি করছেন মূল দখলদার চরবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহাতাব হোসেন সুরুজের স্বজনরা। জমিতে থাকা দোকানপাটের মালিকদের কাছ থেকে জমিটির লিজ প্রাপ্তির লোভ দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হয়েছে। একই সঙ্গে খালি জমিতে বালুর ব্যবসা শুরু করে দিয়েছেন চেয়ারম্যান সুরুজের লোকজন। অভিযোগ রয়েছে, এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে সহায়তা করছেন খোদ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জেড়াল্ড অলিবার গুদা।

গত ৪ নভেম্বর দৈনিক কালের কণ্ঠ’র প্রথম পৃষ্ঠায় ‘গণপূর্তের শত কোটি টাকার জমি আ. লীগ নেতার দখলে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর জমি উদ্ধারে নড়েচড়ে বসে গণপূর্ত বিভাগ। তবে নির্বাহী প্রকৌশলীর অনীহার কারণে এখন আবার সেই জমিতে পুরোদমে জেঁকে বসেছেন দখলদাররা। জমি উচ্ছেদ তো দূরের কথা, এ নিয়ে কোনো তৎপরতাই দেখাচ্ছেন না নির্বাহী প্রকৌশলী জেড়াল্ড অলিবার।

দখলদারদের কাছ থেকে ভাড়ায় দোকান নেওয়া একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চেয়ারম্যান মাহাতাব হোসেন সুরুজ জেলা প্রশাসকের কাছে আমাদের পাঠিয়েছিলেন। তাঁর নির্দেশনা মতো আমরা দাবি করেছিলাম যাতে আমাদের সরানো না হয়। তিনি আশ্বস্ত করেছেন। একই সঙ্গে গণপূর্ত বিভাগ থেকে আমাদের জমি লিজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ জন্য তাঁরা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, উচ্ছেদের জন্য নোটিশ কিংবা মাইকিং বন্ধ রেখেছেন।

উল্লিখিত জমির অবস্থা জানতে চেয়ে গত ২৮ অক্টোবর নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি দিয়েছিলেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। চিঠিটি অতীব জরুরি উল্লেখ করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী জেড়াল্ড অলিবার গুদা এখন পর্যন্ত ওই প্রতিবেদন দেননি। এরপর গত ৬ নভেম্বর গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নাসিম এক কারণ দর্শানো নোটিশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই জমির বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী তারও কোনো জবাব দেননি। তবে ৭ নভেম্বর উচ্ছেদের জন্য জেলা প্রশাসককে দেওয়া চিঠি তিনি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৗশলীকে পাঠান।

এ প্রসঙ্গে নাসিম বলেন, ‘গণপূর্ত অধিদপ্তরের দেওয়া চিঠির বিষয়ে আমি জানি। তবে তার উত্তর নির্বাহী প্রকৌশলী দেননি। দিলে আমি অনুলিপি পেতাম।’ তিনি বলেন, ‘ওই সম্পত্তি দেখভাল করেন নির্বাহী প্রকৌশলী। এখনো অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে তিনি কেন ব্যবস্থা নেননি তা বোধগম্য নয়।’

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল ইকবাল বলেন, ‘আমাকে গণপূর্তের জমি থেকে দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে ওই চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে—উচ্ছেদের সকল ব্যবস্থা করে গণপূর্ত বিভাগ আমাকে জানাবে। তারপর উচ্ছেদ হবে। তবে তারা আর যোগাযোগ করেনি আমার সঙ্গে।’

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জেড়াল্ড অলিবার গুদা বলেন, ‘আমরা উচ্ছেদের জন্য জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছি। তিনি একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছেন। আমরা উচ্ছেদের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। জেলা প্রশাসন সময় দিলেই উচ্ছেদ করব।’ তবে গুদা এরপর গণপূর্ত অধিদপ্তরের চিঠি না পাওয়ার দাবি করে এবং হঠাৎই ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা