kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

চারুকলায় নবান্ন উৎসব

দেশজ ঐতিহ্যের জয়গান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশজ ঐতিহ্যের জয়গান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় গতকাল নবান্ন উৎসবের আয়োজন করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

গতকাল শনিবার ছিল পয়লা অগ্রহায়ণ। প্রতিবছরের মতো এবারেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় নবান্ন উৎসবের আয়োজন করা হয়। বাঁশিতে লোকজ সুরে নগরে হেমন্ত ঋতুকে স্বাগত জানানো হয়। ঋতুভিত্তিক সম্মেলক গান, একক গান, দলীয় নৃত্য, একক আবৃত্তির মধ্য দিয়ে গতকাল শনিবার সকালে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় নবান্নোৎসব উদ্‌যাপন পর্ষদের একবিংশতম এই আয়োজন শুরু হয় সকাল সোয়া ৭টায়।

নবান্ন কত্থন পর্বে উৎসবের উদ্বোধক নাট্য ব্যক্তিত্ব ফেরদৌসী মজুমদার বলেন, ‘জীবন এত যান্ত্রিক হয়ে গেছে! এখানে এসে দেখছি, কী চমৎকার রঙিন পরিবেশ, কী সুন্দর গান-নাচ, ঢোলের বাদ্যি শোনা গেল। এগুলোর দরকার আছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘নবান্ন উৎসব, চৈত্রসংক্রান্তি, পহেলা বৈশাখ এগুলো অবশ্যই থাকবে। এ উৎসবগুলো আমাদের ঘটা করে, অন্তর দিয়ে উদ্‌যাপন করতে হবে।’

জাতীয় নবান্নোৎসব উদ্‌যাপন পর্ষদের চেয়ারম্যান লায়লা হাসান বলেন, ‘আমরা আমাদের এই প্রজন্মকে মাটির সোঁদা গন্ধের যে আমেজ, যে স্নিগ্ধতা তা শেখাতে চাই। তাদের শেকড়ের সন্ধান দিতে চাই। মানবিক জীবনে আমাদের সন্তানদের অন্যদিকে ধাবিত হওয়ার প্রয়াস থাকে, সেখানে তাদের মনে যদি এসবের বীজ বপন করে দিতে পারি, তবে নিশ্চয়ই তারা বাংলাকে ভালোবাসবে।’

উৎসবে দলীয় নৃত্য পর্বে অংশ নেয় নটরাজ, নৃত্যজন, নন্দন কলাকেন্দ্র, স্পন্দন ও বকুল নৃত্যালয়। দলীয় সংগীত পরিবেশন করে বহ্নিশিখা, বুলবুল একাডেমি অফ ফাইন আর্টস (বাফা), সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, সুরতীর্থ।

একক সংগীত পর্বে সালমা আকবর শোনান রবীন্দ্রসংগীত ‘সেদিন আমায় বলেছিলে’, মাহজাবিন রহমান শাওলী শোনান নজরুলসংগীত ‘হৈমন্তকা এসো এসো’। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন নায়লা তারান্নুম কাকলি ও বেলায়েত হোসেন।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শেষে বকুলতলা থেকে ঢাকঢোল বাজিয়ে বের হয় নবান্ন শোভাযাত্রা। সেটি টিএসসি ঘুরে এসে চারুকলা ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে শেষ হয়। দিনব্যাপী উৎসবের বিকেলে ও সন্ধ্যায় ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব ‘বটতলা রঙ্গমেলা’ শুরু

রাজধানীর আগারগাঁও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব ‘বটতলা রঙ্গমেলা’। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় ১১ দিনব্যাপী এ নাট্যোৎসবের উদ্বোধন করেন নাট্যজন আতাউর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল।

নাট্যদল বটতলা আয়োজিত নাট্যোৎসবের স্লোগান ‘নৃশংস নৈঃশব্দ্য ভেঙে সুনন্দ সাহস জাগুক প্রাণে প্রাণে’। উৎসব উদ্বোধনের পরপরই বহিরাঙ্গনে (নাদিম মঞ্চে) শুরু হয় শুভাশিস সিনহার ভাবনায় ও মণিপুরি থিয়েটার দলের পরিবেশনায় নৃত্যনাটক ‘ঢাক-করতালে বাজুক জীবন’। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রঙ্গমঞ্চের (মূল মিলনায়তন) প্রথম দিনে পর্দা ওঠে বটতলার নাটক ‘ক্রাচের কর্নেল’-এর। শাহাদুজ্জামানের উপন্যাস থেকে নাটকটির নাট্যরূপ দিয়েছেন সৌম্য সরকার ও সামিনা লুত্ফা নিত্রা এবং নির্দেশনা দিয়েছেন মোহাম্মদ আলী হায়দার।

আন্তর্জাতিক এই নাট্যোৎসবে প্রতিদিন ‘মূল রঙ্গমঞ্চে’ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হবে। এতে বটতলাসহ বাংলাদেশের দুটি ও বিদেশের আটটি দল তাদের নাটক পরিবেশন করবে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, স্পেন, ইরান ও নেপাল। এ ছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টায় বহিরাঙ্গনে ‘নাদিম মঞ্চে’ থাকছে নাটক, গান, পারফরম্যান্স আর্ট, কবিতা, মূকাভিনয়, নাচসহ বিভিন্ন আনন্দ আয়োজন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা