kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

সরকারি ইটে বাড়ির রাস্তা বানাচ্ছে মেম্বার প্রভাবশালীরা!

এখন কাঁচা এবড়োখেবড়ো রাস্তা দিয়ে মাঠের ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চিন্তিত কৃষকরা

নড়াইল প্রতিনিধি   

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকারি ইটে বাড়ির রাস্তা বানাচ্ছে মেম্বার প্রভাবশালীরা!

নড়াইলের মুলিয়া ইউনিয়নের কোড়গ্রাম সড়কের ইট তুলে তৈরি করা হচ্ছে ইউপি মেম্বার আনন্দ কুমারের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা। ছবি : কালের কণ্ঠ

নড়াইল সদরের মুলিয়া বাজার থেকে কাজলা নদীর তীর ও কোড়গ্রামের ভেতর দিয়ে ফসলের মাঠ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সদরে যাওয়ার রাস্তা। কয়েক বছর আগে গ্রামের প্রধান এই রাস্তা ইটের সলিং দিয়ে পাকা করে সরকার। সম্প্রতি রাস্তাটির জন্য নতুন প্রকল্প পাস হয়েছে—দোহাই দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার আর প্রভাবশালী কয়েকজন মিলে রাস্তার প্রায় আধাকিলোমিটার এলাকার ইট তুলে নিয়ে নিজেদের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করছে।

গত তিন দিনে সরকারি রাস্তার ইট সরিয়ে ব্যক্তিগত রাস্তার কাজে ব্যবহার করায় এলাকার সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হলেও বাধা দেওয়ার সাহস পায়নি। মাঠের ফসল কাঁচা এবড়োখেবড়ো রাস্তা দিয়ে কিভাবে ঘরে তুলবেন, এ নিয়ে চিন্তিত কৃষকরা।

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, মুুলিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কোড়গ্রামে প্রধানত জেলে সম্প্রদায়ের বসবাস। নদীর কূলঘেঁষা গ্রামটিতে প্রায় ৬০০ পরিবারের বাস। প্রায় দুই কিলোমিটারের সড়কটির নানা অংশ জেলা পরিষদ, এলজিএসপি ও উন্নয়ন প্রকল্পে নির্মিত। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় সড়কটি নতুনভাবে করা হবে—এ দোহাই দিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনন্দ কুমার বিশ্বাস রাস্তার ইট তুলে নিজ বাড়ির সামনে আরেকটি রাস্তার কাজ করাচ্ছেন। রাস্তার ইট তুলে করা হয়েছে গ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী দীপক রায়ের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা। আরেক প্রভাবশালী বিকাশ রায়ের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করতে কয়েক হাজার ইট তুলে এনে স্তূপ করে রাখা হয়েছে।

ভালো রাস্তার ইট তুলে নেওয়ায় রাস্তাটি এবড়োখেবড়ো হয়ে গেছে। বালু আর মাটির রাস্তায় ভ্যানও চলতে পারছে না। পড়ে গিয়ে আহত হয় শিশু ও বৃদ্ধরা।

মুলিয়া ইউপির সাবেক সদস্য প্রবীণ অরুণ বিশ্বাস বলেন, ‘রাস্তার কাজের কোনো ঠিক নাই। কবে হবে কেউ জানে না। ভালো রাস্তার ইট তুলে নিয়ে গেল! চেয়ারম্যান-মেম্বর মানুষের ভালো না করে খারাপ করল।’

রাস্তার পাশের বাসিন্দা সুবর্ণা মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের ফসলাদি সব এই রাস্তা দিয়ে আসে, ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যায়। এখন ইট তুলে নেওয়ায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। নিজেদের সুবিধার জন্য এঁরা (অভিযুক্ত) এলাকার শত শত মানুষের ক্ষতি করল।’

সাবেক ইউপি সদস্য বিপুল কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘সরকারি রাস্তার ইট এভাবে চুরি করে ব্যক্তিগত কাজে লাগিয়ে এরা রাস্তাটি ধ্বংস করল। কত দিনে এই রাস্তা হবে তার ঠিক নেই। তত দিন আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হবে।’

প্রধান অভিযুক্ত মেম্বার আনন্দ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমি এই রাস্তার এলজিএসপি অংশের ইট নিচ্ছি। তবে এটি আমার ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না।’

ইউপি চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ অধিকারী বলেন, ‘এ রাস্তায় একটি বড় প্রকল্প হবে। তাই আমি বলেছি ইট তুলে অন্য রাস্তা তৈরি করতে। তবে জেলা পরিষদ অংশের ইটের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।’ সরকারি রাস্তার ইট তুলে ফেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওই রাস্তার কাজের টেন্ডার হয়ে গেছে।’

নড়াইল সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আজিম উদ্দিন বলেন, ‘ওই রাস্তায় কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে মাত্র। তবে আমি মুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যানকে বলেছিলাম রাস্তা থেকে ইট না নেওয়ার জন্য।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা