kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

মামলার চাপ কমাতে ব্যর্থ সরকারের উদ্যোগ

সংশোধিত দেওয়ানি আইনের ওপর হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে উদ্যোগ নেই

এম বদি-উজ-জামান   

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মামলার চাপ কমাতে ব্যর্থ সরকারের উদ্যোগ

প্রতীকী ছবি

আইন সংশোধন করেও উচ্চ আদালতে দেওয়ানি মামলার চাপ কমানো গেল না। ফলে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে সরকারের এ উদ্যোগের সুফল নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কোনো বিরোধ বা সমমূল্যের সম্পত্তিসংক্রান্ত কোনো মামলা নিষ্পত্তি করতে নিম্ন আদালতকে ক্ষমতা দিয়ে তিন বছর আগে সরকার আইন করলেও সেই আইন কার্যকর করতে পারেনি। এ বিষয়ে ২০১৬ সালে করা দেওয়ানি আদালত আইনের কার্যকারিতার ওপর হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের কারণে সরকারি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। তিন বছর আগে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ বাতিল বা প্রত্যাহারে সরকারের কোনো উদ্যোগও নেই। ফলে আগের মতোই ১৩২ বছর আগের পুরনো আইনে দেওয়ানি মামলার বিচারকাজ চলছে।

বর্তমানে নিম্ন আদালত সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকার আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কোনো বিরোধ বা সমমূল্যের সম্পত্তিসংক্রান্ত কোনো মামলা নিষ্পত্তি করতে পারেন। ১৮৮৭ সালের ১১ মার্চ করা দেওয়ানি আদালত আইনে এই বিচারকাজ পরিচালিত হচ্ছে। এর চেয়ে বেশি টাকার বিরোধ হলে তার বিচার হয় হাইকোর্টে। এ কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিচারপ্রার্থীদের দেশের উচ্চ আদালতে ছুটতে হয়। এ কারণে উচ্চ আদালতেও দিন দিন মামলার সংখ্যা বাড়ছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, হাইকোর্টে ৯৬ হাজারেরও বেশি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার মামলা রয়েছে, যা পাঁচ কোটি টাকা মূল্যমানের অর্থ বা সম্পত্তিসংক্রান্ত মামলা। এ অবস্থায় সরকার বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে ১৩২ বছর আগের পুরনো আইন যুগোপযোগী করতে ২০১৬ সালের ১২ মে দেওয়ানি আদালত আইন সংশোধন করে। আইন সংশোধনের মাধ্যমে দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তি করতে জেলা জজের আর্থিক এখতিয়ার পাঁচ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়। অর্থাৎ জেলা জজরা পাঁচ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের কোনো বিরোধ বা সমমূল্যের সম্পত্তিসংক্রান্ত কোনো মামলা নিষ্পত্তি করতে পারবেন। ওই আইনে জেলার সহকারী জজ ও সিনিয়র সহকারী জজেরও আর্থিক এখতিয়ার বাড়ানো হয়।

এ অবস্থায় আইনের এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আলী আজম ফরাজী। হাইকোর্ট ২০১৬ সালের ১৬ জুন এক আদেশে ওই সংশোধনীর কার্যকারিতার ওপর স্থগিতাদেশ দেন। একই সঙ্গে ওই সংশোধনী কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। হাইকোর্টের এই স্থগিতাদেশের ফলে এখন পর্যন্ত আইনটি কার্যকর করা যায়নি। এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারেও রাষ্ট্রপক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেই। তবে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, সরকারের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রিট আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশেদুল হক বলেন, হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ বহাল রয়েছে। ফলে আগের মতোই মামলার বিচারকাজ চলছে। তিনি বলেন, এই সংশোধনীর মাধ্যমে যে ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় তা বিচার বিভাগ পৃথক্করণ সংক্রান্ত মাসদার হোসেন মামলার নির্দেশনার পরিপন্থী। ওই সংশোধনী কার্যকর হলে অনেক বিচারপ্রার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ কারণেই রিট আবেদন করা হয়। 

২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিল মাসে সিভিল কোর্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০১৬ জাতীয় সংসদে পাস করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ওই বছরের ১২ মে গেজেট আকারে তা জারি করা হয়। সংশোধিত আইনে রয়েছে নিম্ন আদালতের সহকারী জজকে দেওয়া ছয় হাজার থেকে ১৫ লাখ টাকা ও সিনিয়র সহকারী জজকে দেওয়া ১৫ লাখ এক টাকা থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মামলার বিচার করার ক্ষমতা, জেলা জজকে দেওয়া সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের মামলা নিষ্পত্তি করার ক্ষমতা। এই আইনে বলা হয়, কার্যকর হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে বিচারাধীন মামলাগুলো এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে ফেরত যাবে। মামলা যে পর্যায়ে রয়েছে সেই অবস্থায়ই এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে যাবে। অর্থাৎ আইনে ভূতাপেক্ষতা দেওয়া হয়েছে। শুধু হাইকোর্টের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন কোনো আপিল বা কার্যক্রমের আংশিক শুনানি হয়ে থাকলে তা স্থানান্তরিত হবে না।

আইনজীবীরা বলছেন, এই আইন কার্যকর হলে হাইকোর্টে দেওয়ানি মামলা আসা কমে যাবে। আদালতে মামলা কম হবে, মামলার জট কমবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা