kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

নবান্ন উৎসবে ভাটা রংপুর অঞ্চলে

পেঁয়াজ নাগালের বাইরে, ধানের দাম কম

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নবান্ন উৎসবে ভাটা রংপুর অঞ্চলে

আমন ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত রংপুরের কৃষকরা। ছবিটি গতকাল নগরীর বুড়িরহাট কোবারু এলাকা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রকৃতিতে এখন হেমন্তকাল। অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম দিন ছিল গতকাল শনিবার। জাতীয় কৃষি দিবস হিসেবে ঘোষণা হওয়ায় এ দিনটিকেই নবান্ন উৎসব হিসেবে বেছে নিয়েছেন কৃষকরা। কিন্তু ধানের দাম না থাকা, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নাগালের বাইরে থাকায় নবান্ন আয়োজনে এবার ভাটা পড়েছে শস্যভাণ্ডার বলে পরিচিত রংপুর অঞ্চলে।

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে অগ্রহায়ণ মাস আসে নতুন ফসলের সওগাত নিয়ে। অগ্রহায়ণ কৃষককে উপহার দেয় সোনালি দিন। তাঁদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফলানো সোনালি ধানের সম্ভার সগৌরবে বুকে ধারণ করে হেসে ওঠে বাংলাদেশ। হাসি ফোটে কৃষকের মুখেও; মাঠভরা সোনালি ফসল নতুন স্বপ্ন জাগায় চোখে। দিন-রাতের অবিশ্রান্ত শ্রমে-ঘামে কৃষকের ঘরে ওঠে সোনার ধান। বাংলার গ্রাম-গঞ্জ মেতে ওঠে নবান্নের উৎসবে।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ধান কাটার মহোৎসব চলছে। কৃষক-কিষানি কেউ বসে নেই। পিঠা-পায়েসসহ নবান্নের আয়োজনে কেউ বা ধান কাটছেন, কেউ বা করছেন মাড়াই। গৃহবধূরা ঢেঁকি কিংবা উরুন-গাইনে ধান থেকে চাল তৈরি করছেন। দিন-রাত চলছে রোপা আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ। পা চালিত ধান মাড়াই যন্ত্রের ঘড়ঘড় শব্দে গ্রামের পরিবেশটাই যেন পাল্টে গেছে। তবে অন্যান্য বছর নতুন ধানে নবান্নকে ঘিরে যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে, এবারে তা চোখে পড়েনি।

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের বিজয় বাঁধ এলাকায় লিপি বেগম গতকাল ‘উরুন-গাইনে’ নতুন ধানের চাল থেকে আটা তৈরি করছিলেন। তিনি বলেন, ‘নবান্নের দিনে পিঠা-পায়েস না খাইলে কি হয়!’ তবে মনে শান্তি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঘরোত খালি ধান আছে—বাজারোত তার দাম নাই। পেঁয়াজ কেনার বুদ্দি নাই, তরকারিরও দাম বেশি।’ এসব কারণে গ্রামাঞ্চলে নবান্নের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

কোলকোন্দ ইউনিয়নের পীরেরহাট গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘যদিও আগাম জাতের ধান অনেক আগেই কাটা হয়েছে, তার পরও আমরা কয়েক বছর থেকে অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম তারিখেই নবান্নের আয়োজন করে থাকি।’ কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের মীরবাগ গ্রামের শরিফুল আলম বলেন, একই দিনে গ্রামে নবান্ন উৎসবের আয়োজনে খুব মজা হয়। তবে এবারে জিনিসপত্রের দাম বেশি এবং ধানের দাম কম হওয়ায় গ্রামে নবান্নকে ঘিরে তেমন আয়োজন নেই।

পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়নের তালুক উপাসু গ্রামের ভাই ভাই চালকলে গিয়ে দেখা যায়, ধান ভাঙতে উপচে পড়া ভিড়। চালকলের মালিক শাহ আলম জানান, এক মাস আগে থেকেই আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হলেও তেমন ভিড় ছিল না। কিন্তু ১ অগ্রহায়ণ নবান্ন ঘিরে দুই দিন থেকে কৃষকরা ধান ভাঙাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

কৃষকরা জানান, নবান্নের দিনে প্রতিবছর নতুন ধানের পিঠা-পায়েসসহ ভালো খাবারের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া বিশেষ প্রার্থনা করা হয়, যাতে আগামী দিনেও মহা ধুমধামের সঙ্গে নবান্ন উৎসব পালন করা হয়। কিন্তু এবার পেঁয়াজসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বাপ-দাদার আমল থেকে পালন করে আসা নবান্ন উৎসবে যেন ভাটা পড়েছে। তবে উৎসব না হলেও বেঁচে থাকার তাগিদে নতুন ধানের ভাত খাবেন তাঁরা। এ জন্য হাড়ভাঙা পরিশ্রমে উৎপাদিত ধান থেকে চাল তৈরি করছিলেন তাঁরা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা