kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

ছেলে ফিরবে, নাকি ফিরবে না!

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ছেলে ফিরবে, নাকি ফিরবে না!

ইমরান

‘পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ শান্তির স্থান মায়ের কোল’—ফেসবুকে একটি কার্টুনের সঙ্গে এই আবেগঘন লেখা লিখেছেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী গ্রামের বাসিন্দা আসমা বেগম। কার্টুনে দেখা যায়, এক নারীর দুই পায়ের ওপর উপুড় হয়ে পরম আরামে ঘুমাচ্ছে একটি শিশু। আসমা বেগমের একমাত্র ছেলে ইমরান (১৪) ৮২ দিন ধরে ভারতের একটি শিশু আশ্রয় কেন্দ্রে দিন যাপন করছে। ইমরান কখন ঘরে ফিরবে সে প্রতীক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন এই জননী।

গত ২৬ আগস্ট শখের বশে ইমরান ‘এফবি ইমরান’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলারে অন্য জেলেদের সঙ্গে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যায়। কিন্তু হঠাৎ ওঠা ঝড়ে সে ছিটকে পড়ে যায়। প্রায় ১০ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর ভারতীয় ট্রলার ‘এফবি বাবা পঞ্চানন’ এর চালক মনোরঞ্জন দাস তাকে উদ্ধার করেন। জেলেরা চার দিন ইমরানকে তাদের সঙ্গে  রেখে পরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডায়মন্ড হারবার মহকুমার রায়দিঘি থানায় পৌঁছে দেয়। সেখান থেকে জেলার ভোলাহাট থানার শিশু যত্ন ও সুরক্ষা কেন্দ্র ‘নূর আলী মেমোরিয়াল সোসাইটিতে’ পাঠানো হয় তাকে।

আসমা বেগম কয়েকবার ‘নূর আলী মেমোরিয়াল সোসাইটির’ সুপার রুম্পা মুখার্জির মাধ্যমে ফোনে ছেলের সঙ্গে কথা বলেছেন। ইমরান মাকে প্রতিবার তাঁর দুর্বিষহ ও ভয়ংকর সাগরযাত্রার ঘটনা বর্ণনা করে। গত মঙ্গলবার শেষ কথা হয় ছেলের সঙ্গে। ইমরান কেঁদে কেঁদে বলে, ‘মাগো, রাইতে গুমাইতে পারি না, গুমের মধ্যে ভয়ংকর স্বপ্ন দেহি। বড় বড় তুফান গায়ের উপরে পড়ে আর পানির তলে নিয়া যায়।’

রুম্পা মুখার্জি জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর রায়দিঘি থানার শিশু সুরক্ষা  কমিটির মাধ্যমে ইমরানকে এখানে ভর্তি করা হয়। তাকে যথাযথ সেবা দেওয়া হচ্ছে, সরকারি আদেশ পেলে তাকে দেশে পাঠানো হবে।

বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, ইমরানকে দ্রুত তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসে কথা বলা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা