kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ জানুয়ারি ২০২০। ১০ মাঘ ১৪২৬। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

স্থাপনার নামফলক

স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম সরাতে হবে ৯০ দিনের মধ্যে

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের নামে বসাতে নির্দেশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ দেশের যেসব স্থাপনায় স্বাধীনতাবিরোধীদের নামফলক রয়েছে, সেসব স্থাপনা থেকে তাদের নাম ৯০ দিনের মধ্যে অপসারণ করতে সময় বেঁধে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের নামে ওই সব প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনার নামকরণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শিক্ষাসচিব ও স্থানীয় সরকার সচিবকে। এ ছাড়া পরবর্তী আদেশের জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।

বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন আদালত। আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার এ কে রাশেদুল হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত।

এর আগে ২০১২ সালে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন ও শাহরিয়ার কবিরের করা এক রিট আবেদনের  পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট খুলনায় খান-এ সবুরের এবং বাংলাদেশ ইসলামিক (কুষ্টিয়া) ইউনিভার্সিটির অডিটরিয়াম থেকে শাহ আজিজুর রহমানের নাম সরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই আদেশ কার্যকর না হওয়ায় সম্পূরক আবেদন করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আবেদনের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১৫ সালের ৩ নভেম্বর খুলনায় খান-এ সবুর সড়ক এবং কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান মিলনায়তনের নাম পরিবর্তনের আদেশ দিয়েছিলেন। ওই নির্দেশ বাস্তবায়ন করার পর আরো ২০ জনের নাম উল্লেখ করে আবার আবেদন করে রিট আবেদনকারীপক্ষ। হাইকোর্ট ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর ওই ২০ জনের নামও পরিবর্তন করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে খুলনায় খান-এ সবুরের নামে আরো কোনো প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনার নাম থাকলে তাও অপসারণ করতে বলা হয়। ওই আদেশ কার্যকর করে প্রতিবেদন দাখিল করতে শিক্ষাসচিব ও স্থানীয় সরকার সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল নতুন করে আদেশ দিলেন হাইকোর্ট।

রিট আবেদনকারীপক্ষের দাখিল করা নামফলকের তালিকায় যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয় তাঁরা হলেন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা প্রয়াত আব্দুল আলিম, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, জাতীয় পার্টির নেতা সৈয়দ মো. কায়সার, মৌলভীবাজারের শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান এন এম ইউসুফ আলী, সিরাজগঞ্জের সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া খান মজলিস, ফরিদপুরের আব্দুর রাজ্জাক মিয়া, মৌলভীবাজারের মাহতাব উল্লাহ, গাইবান্ধার আব্দুল আজিজ (ঘোড়া মারা আজিজ) ও আব্দুল জব্বার, নোয়াখালীর তরিকুল্লাহ, ঝিনাইদহের মিয়া মনসুর আলী, কুমিল্লার রেজাউর রহমান, নাটোরের আব্দুর সাত্তার খান মধু মিয়া ও কাছির উদ্দিন, ঢাকা দক্ষিণের মো. তামিমুল এহসান ও মোহাম্মদ উল্লাহ (হাফেজ্জী হুজুর), নেত্রকোনার আব্দুর রহমান, মেহেরপুরের মিয়া মনসুর আলী ও সাবধার আলী এবং ঝিনাইদহের সফি আহমেদ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা