kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

ঋণ ফেরত দিচ্ছেন না শীর্ষ খেলাপিরা

রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের সঙ্গে গভর্নরের বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক। ফলে তাঁদের কাছ থেকে ঋণ আদায়ে রীতিমতো ব্যর্থ হচ্ছে এসব ব্যাংক। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোনো ব্যাংকই শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছ থেকে ঋণ আদায়ের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এসব ব্যাংকের একটি পর্যালোচনা বৈঠক হয়। বৈঠকে খেলাপি ঋণ আদায়ের ওপর জোর দিতে ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপত্বিতে বৈঠকে ব্যাংকগুলোর এমডিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি থেকে ৬০০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সোনালী ব্যাংকের। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষে মাত্র ২৯ কোটি টাকা আদায় করেছে সোনালী ব্যাংক। এর মধ্যে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত শুধু ১১ কোটি টাকা এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৮ কোটি টাকা আদায় করেছে ব্যাংকটি।

জনতা ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা। তারা আদায় করেছে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১১ কোটি টাকা এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৬ কোটি টাকা। একই সময়ে মাত্র আট কোটি ৩০ লাখ টাকা আদায় করেছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন অপর ব্যাংক অগ্রণী ব্যাংক। জানুয়ারি থেকে জুন ছয় মাস সময়ের মধ্যে চার কোটি এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর তিন মাস সময়ের মধ্যে চার কোটি ৩০ লাখ টাকা আদায়ে সক্ষম হয় তারা। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে মোট ৪০০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল অগ্রণী ব্যাংকের। এ ছাড়া রূপালী ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০০ কোটি টাকা। সেখানে মোট ৮৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে ব্যাংকটি। শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছ থেকে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মাত্র ৮৬ লাখ টাকা এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮৯ কোটি টাকা আদায় করেছে রূপালী ব্যাংক।

ব্যাংকগুলোর লোকসানি শাখাও কমছে না। বৈঠক সূত্র জানায়, সোনালী ব্যাংক ছাড়া বাকি তিনটি ব্যাংকের মধ্যে কোনো ব্যাংক লোকসানি শাখার সংখ্যা কমাতে পারেনি। ২০১৮ সাল শেষে সোনালী ব্যাংকের মোট লোকসানি শাখা ছিল ৯৩টি। ২০১৯ সালের জুন শেষে তা কমিয়ে ৬১-তে নামিয়ে এনেছে তারা। তবে জনতা ব্যাংকের লোকসানি শাখা সংখ্যা ৫৬ থেকে বেড়ে ৫৯টি, অগ্রণী ব্যাংকের ২১ থেকে বেড়ে ৪৬টি এবং রূপালী ব্যাংকের লোকসানি শাখার সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে ১৬টিতে পরিণত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের বিভিন্ন আর্থিক সূচক নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর জন্য চলতি বছরে বেশ কয়েকটি টার্গেট নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিশেষভাবে খেলাপি ঋণ থেকে নগদ আদায়, শীর্ষ ২০ খেলাপি থেকে আদায়, অবলোপনকৃত ঋণ থেকে আদায়, কৃষি ও এসএমই ঋণ বিতরণ, অন্যান্য বিনিয়োগ, লোকসানি শাখার সংখ্যা হ্রাস, রিট মামলা নিষ্পত্তি, অর্থঋণ ও অন্যান্য মামলা নিষ্পত্তি, বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তি, শাখাগুলোকে অনলাইনের আওতায় আনাসহ বিভিন্ন আর্থিক সূচকের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা