kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

তদন্তের অগ্রগতি জানাতে হাইকোর্টের নির্দেশ

র‌্যাব ব্যর্থতার দায় বহন করুক এটা কাম্য নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



র‌্যাব ব্যর্থতার দায় বহন করুক এটা কাম্য নয়

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও তাঁর স্ত্রী মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় তদন্তের অগ্রগতি আগামী ৪ মার্চের মধ্যে জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এই মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক এবং পরে জামিন পাওয়া মো. তানভীর রহমানের সম্পৃক্ততার বিষয়েও প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। আদালত তানভীর রহমানকে নিম্ন আদালতে স্বশরীরে হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। তবে আইনজীবীর মাধ্যমে তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। আদালত আগামী ৪ মার্চ পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন। নিজের ক্ষেত্রে মামলা বাতিল চেয়ে তানভীর রহমানের করা এক আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সরওয়ার হোসেন বাপ্পী। তানভীরের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

হাইকোর্ট আদেশে বলেছেন, দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও তদন্তের মাধ্যমে এ মামলার রহস্য উদ্ঘাটিত না হওয়া এবং অপরাধীদের চিহ্নিত, গ্রেপ্তার ও বিচারের সম্মুখীন করতে না পারা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক ও হতাশার বিষয়। প্রযুক্তিনির্ভর, অভিজাত ও চৌকস বাহিনী হিসেবে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) দেশে জঙ্গি, সন্ত্রাস, মাদক, বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার, ভেজাল প্রতিরোধসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অনন্য সফলতা দেখিয়েছে। যদি এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করে বিচারের সম্মুখীন করতে না পারে তবে তাদের সফলতা কিছুটা হলেও ম্লান হবে।

আদালত আরো বলেন, এই আদালত প্রত্যাশা করছে যে র‌্যাব অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে হত্যার রহস্য উন্মোচন ও প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করে বিচারে সোপর্দ করতে সক্ষম হবে। বিশেষায়িত এই বাহিনী ব্যর্থতার দায়ভার বহন করুক, এটা কারো কাম্য নয়।

আদালত বলেন, সাংবাদিক সাগর-রুনির নৃশংস হত্যাকাণ্ড সারা দেশে চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। নিহতদের পরিবার, সাংবাদিক সমাজসহ দেশের সব স্তরের মানুষের দৃঢ় প্রত্যাশা ছিল, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। কিন্তু রূঢ় সত্য ও বাস্তবতা হলো এই যে দীর্ঘ প্রায় সাত বছর অতিক্রান্ত হতে চললেও এ হত্যা মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ করা এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

আদেশে বলা হয়, আদালতের নির্দেশে মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা কেস ডকেটসহ উপস্থিত হয়ে আদালতকে অবহিত করেন যে এ পর্যন্ত মোট আট ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কারো কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। গ্রেপ্তারকৃতদের কেউই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে কোনো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি। আমেরিকার এফবিআই কর্তৃপক্ষ চার ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষা করেছে, যার মধ্যে দুটি মৃত ব্যক্তিদ্বয়ের। কিন্তু এই ডিএনএর সঙ্গে গ্রেপ্তার করা আসামিদের ডিএনএ মেলেনি। অর্থাৎ অন্য দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আমেরিকার বিশেষায়িত ল্যাবরেটরিতে ডিএনএর ওপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য অপরাধীদের ‘অবয়ব’ তৈরির চেষ্টা চলছে।  

আদালত বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার শেষে আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী বলা যায় না। এর আগ পর্যন্ত সে নিরপরাধ ব্যক্তি। সুতরাং বর্তমান আসামিকে (তানভীর রহমান) অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার আপাতত কোনো অবকাশ নেই।

হাইকোর্ট গত ২০ অক্টোবর এক আদেশে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন। মামলার সিডিসহ (যাবতীয় নথি) তাঁকে ৬ নভেম্বর হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, কিন্তু ওই দিন আদালত না বসায় শুনানি হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ নভেম্বর শুনানি হয়। এদিন শুনানি শেষে ১৪ নভেম্বর আদেশের দিন ধার্য করেন। গতকাল নির্ধারিত দিনে আদেশ দিলেন আদালত।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি নিজ বাসায় খুন হন সাগর-রুনি। এ ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলানগর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পড়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওপর। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব)। এরপর ওই বছরের ১ অক্টোবর সাগর-রুনির ‘কথিত’ পারিবারিক বন্ধু ও স্কলাসটিকা স্কুলের ডেপুটি ম্যানেজার তানভীর রহমানকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয় এবং ওই বছরের ১০ অক্টোবর তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। হাইকোর্ট ২০১৪ সালের ২ ডিসেম্বর তানভীর রহমানকে জামিন দেন। এরই মধ্যে পাঁচ বছর পার হতে চলেছে, কিন্তু মামলার তদন্ত সম্পন্ন হয়নি। আগামী ৩০ নভেম্বর নিম্ন আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। এরই মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৬৯ বার সময় নিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা