kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

তদন্তের অনুমতি দিল আইসিসি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তদন্তের অনুমতি দিল আইসিসি

রোহিঙ্গাদের গণবাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশ আসা এবং তাদের ওপর নিপীড়ন তদন্তের অনুমতি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি)। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নেদারল্যান্ডসের হেগে আইসিসির প্রাক-বিচারিক আদালত-৩ এক ঐতিহাসিক রায়ে ওই অনুমতি দেন। এর ফলে আইসিসির কৌঁসুলি তদন্ত শুরু করার সবুজ সংকেত পেলেন। আইসিসির বিচারিক প্রক্রিয়া বেশ দীর্ঘ হলেও রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় আশা দেখা দিয়েছে।

গতকালের রায়ে আইসিসি বলেছেন, ‘মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তজুড়ে জোরপূর্বক বহিষ্কারের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং ধারাবাহিক ও বড় পরিসরে সহিংসতা হয়েছে বলে বিশ্বাস করার মতো জোরালো ভিত্তি আছে।’

ওই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই আইসিসি রোহিঙ্গাদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধসহ রোম সংবিধিতে বর্ণিত অন্যান্য অপরাধের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করার অনুমতি দিয়েছেন। মিয়ানমার আইসিসির সদস্য না হওয়ায় তার ওপর আইসিসির বিচারিক এখতিয়ার নেই। তবে বাংলাদেশ আইসিসির সদস্য। রোহিঙ্গারা গণবাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসার মধ্য দিয়ে জোরপূর্বক বহিষ্কার, দেশান্তরীকরণসহ বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। সেগুলোর বিচারিক এখতিয়ার আইসিসির আছে।

গত আগস্ট মাসে আইসিসির কৌঁসুলির দপ্তরের প্রতিনিধিরা সম্ভাব্য তদন্ত সামনে রেখে বাংলাদেশ সফর করেছেন। সে সময়ই বাংলাদেশে তাঁদের অফিস খোলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন আইসিসি তদন্ত শুরু করার অনুমতি দেওয়ায় দ্রুত তদন্ত এবং তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ প্রক্রিয়া শুরু হবে।

রোহিঙ্গা নিপীড়নের অভিযোগে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী ও মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো মামলা হয়েছে। গত বুধবার আর্জেন্টিনার আদালতে রোহিঙ্গা ও লাতিন আমেরিকার মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো ‘ইউনিভার্সেল জুরিসডিকশনের’ (সর্বজনীন এখতিয়ার) আওতায় সংখ্যালঘুদের জন্য ‘অস্তিত্বের হুমকি’ সৃষ্টির ব্যাপারে ন্যায়বিচার দাবি করে সু চিসহ কয়েকজন সামরিক অধিনায়কের বিরুদ্ধে মামলা করে। ‘ইউনিভার্সেল জুরিসডিকশন’ ধারণাটি বিশ্বের অনেক দেশের আইনেই আছে। যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ এমনই ভয়ংকর যে তা কোনো একটি দেশে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর বিচার যেকোনো স্থানে করা যায়। আইনজীবী থমাস ওজেয়া বলেন, তাঁদের আবেদনে ‘জেনোসাইডের’ সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং আড়াল করার মতো ফৌজদারি অপরাধের বিচার চাওয়া হয়েছে। অন্য কোথাও এ ধরনের মামলার সুযোগ না থাকায় তাঁরা আর্জেন্টিনায়ই এ মামলা করেছেন।

মামলায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য হুমকি হয়ে ওঠা সু চি ও সামরিক বাহিনীপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংসহ কয়েকজনের বিচার করার আবেদন জানানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা