kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

ইউনেসকো সম্মেলন

রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রশংসা বাংলাদেশের

শরীফুল আলম সুমন, প্যারিস (ফ্রান্স) থেকে   

১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ববাসীর কাছে এ এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, মানবতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। গতকাল বৃহস্পতিবার ইউনেসকোর ৪০তম জেনারেল কনফারেন্সে প্যানেল আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। ওই সময় উপস্থিত বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় প্যারিসে ইউনেসকো সদর দপ্তরে ওই সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শুরুতেই শিক্ষা ও মানবিকতা বিষয়ে সংগীত পরিবেশন করেন ইতালির বিশ্বখ্যাত শিল্পী এন্ড্রু বোসিলি।

পরে বক্তৃতা করেন যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক ম্যাক্স ফ্রেইডার। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ মানবিকতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, বিশ্বে তা বিরল। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন ও ভারতের মতো দেশও এ ধরনের দৃষ্টান্ত দেখাতে পারেনি। সম্পদের সীমাবদ্ধতা, অধিক জনসংখ্যা এবং অন্যান্য চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ মানুষের জীবন রক্ষায় নজিরবিহীন ভূমিকা রেখেছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে জাতিসংঘসহ বিশ্বের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। মিয়ানমারই রোহিঙ্গাদের দেশ। সেখানে তাদের নিরাপত্তা এবং যথাযথ মর্যাদাসহ নিরাপদ প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

ম্যাক্স ফ্রেইডার যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করছিলেন। বাংলাদেশে গিয়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি সাহায্য ও মমতার হাত বাড়ানো দেখে গবেষণার বিষয়বস্তু পরিবর্তন করেন। তিনি আর্ট অ্যান্ড এডুকেশন, কমিউনিটি বেজড, স্পেশাল ফোকাস অন রোহিঙ্গা বিষয়ে পিএইচডি শেষ করেন।

প্যানেল আলোচনা শেষে দীপু মনি বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্বনেতারা বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ মানবিকতা বিশ্বে রোল মডেল। নিজেদের অনেক সমস্যা থাকার পরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ অসহায়-নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে সম্মেলনে আরো দুটি প্লেনারি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিষয়ক দ্বিবার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন সেশনে সভাপতিত্ব করেন ডা. দীপু মনি। শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি ও গতিশীলতা শীর্ষক মন্ত্রীদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। এ ছাড়া মন্ত্রী ভারতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এতে উভয় দেশের উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে সহযোগিতা বিনিময়ের ওপর জোর দেওয়া হয়।

পরে ম্যাক্স ফ্রেইডার বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলোচায় বলেন, ‘রোহিঙ্গা শিশুদের আর্ট শেখাতে গিয়ে বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে পরিচয় হয়েছে। আমি কক্সবাজারের কুতুপালং ও বালুখালীতে কাজ করেছি। বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে বোঝাপড়া চমৎকার। বাংলাদেশ প্রাণভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত পলায়নপর রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে, বুকে টেনে নিয়েছে; যা সারা বিশ্বে অবিশ্বাস্য ও অভূতপূর্ব ঘটনা। ১২ লাখ লোককে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। তাদের সব প্রয়োজন মিটিয়েছে। এটি সারা পৃথিবীতে অবিস্মরণীয় প্রশংসনীয় উদ্যোগ। মানবতার রোল মডেল হতে পারে বাংলাদেশ। বিপন্ন মানুষের চরম সংকটের মুহূর্তে যেভাবে হাত বাড়িয়েছে বাংলাদেশের মানুষ, তার মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক প্রভাব অপরিসীম। মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও নাগরিকত্ব দিয়ে রোহিঙ্গাদের অবিলম্বে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে হবে। এ কাজে জাতিসংঘকে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।’

ম্যাক্স ফ্রেইডার যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা তরুণ চিত্রশিল্পী। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আর্টুলুশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। নিউ ইয়র্কভিত্তিক কমিউনিটি বেজড এই পাবলিক আর্ট অর্গানাইজেশন বিশ্বের আটটি অঞ্চলের স্থানীয় চিত্রশিল্পীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রতিষ্ঠানটি নিপীড়িত শিশুদের নিয়ে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ নিগৃহীত, ভীতিকর অবস্থায় থাকা শিশুদের ছবি আঁকা শেখানো। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত ১০ লাখ শিশুকে ছবি আঁকা শিখিয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা