kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ইউনেসকোর সম্মেলন

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ

শরীফুল আলম সুমন, প্যারিস (ফ্রান্স) থেকে   

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। সে লক্ষ্যে কাজও শুরু করেছে সরকার।

গত মঙ্গলবার থেকে ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেসকোর সদর দপ্তরে এর ৪০তম সাধারণ সম্মেলন শুরু হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। বিশ্বের ১৯৩টি দেশ এতে অংশ নিচ্ছে। গতকাল সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন বাংলাদেশের বক্তব্য তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ইউনেসকোর অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের শিক্ষামন্ত্রীরাও বক্তব্য দেন। তবে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে দীপু মনির তুলে ধরা কর্মপরিকল্পনা ও এর বাস্তবায়ন ব্যাপক প্রশংসিত হয়। এতে দেখা যায়, অনেক দেশের চেয়েই এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এমডিজি) শিক্ষার লক্ষ্য নির্দিষ্ট সময়ের আগেই অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। এখন যেভাবে চলছে তাতে এসডিজির লক্ষ্যও যথাসময়ে অর্জন করা সম্ভব হবে।

সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত। বাংলাদেশের লক্ষ্য গুণগত শিক্ষায়ও রোল মডেল হওয়া। স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ব্যাপারে প্রতিশ্রতিবদ্ধ। আমরা এটা সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সঙ্গে সংযুক্ত করেছি।’

তিনি বক্তব্য উপস্থাপনের পর সম্মেলনে যোগ দেওয়া বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বলেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কারণে রোবটিক্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সি, ভার্চুয়াল রিয়ালিটির মতো বিষয়গুলো বিস্ময়কর গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এসব বিষয়ে একটি নৈতিক মানদণ্ড তৈরি করা জরুরি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারকাজ চলছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ আইসিটি শিক্ষায় খুব গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি লেভেলে ডিজিটাল ক্লাসরুম স্থাপনসহ ডিজিটাল সেন্টার চালু করা হয়েছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কারিকুলাম ডেভেলপমেন্টের কাজ চলছে। প্রান্তিক জনপদেও আইসিটি শিক্ষা চালু করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজের ভাষায় শিক্ষায় জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রাইমারি শিক্ষায় এনরোলমেন্টের হার ৯৮ শতাংশ এবং ছেলে শিক্ষার্থীর তুলনায় মেয়ে শিক্ষার্থীর পরিমাণ বেশি। আমরা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুসহ প্রতিটি শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করতে চাই।’

সম্মেলনে বাংলাদেশের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সোহরাব হোসাইন, ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন ও বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল মো. মনজুর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য