kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

দেশে ডেঙ্গু ঝুঁকি বেড়েছে ৩৬%

ল্যানসেটের গবেষণা প্রতিবেদন

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশে ডেঙ্গু ঝুঁকি বেড়েছে ৩৬%

জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে দেশে ডেঙ্গু বিস্তারের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে এই ঝুঁকি বেড়েছে অন্তত ৩৬ শতাংশ। চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক প্রভাবশালী সাময়িকী ল্যানসেটের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। ‘ল্যানসেট কাউন্টডাউন অন হেলথ অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ ২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৫টায় প্রকাশিত হয়।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য বিভাগের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ডা. সৈয়দ জাহাঙ্গীর হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডেঙ্গু বিস্তারের সঙ্গে উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাতের একটি সম্পর্ক আছে। শীতে এরা একটু চুপসে থাকে। গরমে এরা ভয়ংকর হয়ে ওঠে। এবারে বৃষ্টি কম হওয়া ও উষ্ণতার জন্য ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা গেছে। আর স্বাভাবিকভাবে শিশুরা বেশি মাত্রায় সংক্রমণ-ঝুঁকিতে থাকে। তাপমাত্রা বাড়লে ডেঙ্গু বৃদ্ধির ঝুঁকি আছে।’

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের হার বেড়েছে এবং শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেশি। বাংলাদেশে ডেঙ্গু বিস্তারের ক্ষেত্রে উষ্ণ তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাতের তারতম্য—এই তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ডেঙ্গু সংক্রমণের ক্ষেত্রে এই তিনটি বিষয়েরই আন্তঃসম্পর্ক বিদ্যমান। যেমন—বাংলাদেশে অসময়ে বৃষ্টিপাত ও দাবদাহের পরিমাণ বেড়েছে। তবে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো তাদের জনস্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে ডেঙ্গু ঝুঁকি কমিয়ে আনতে পেরেছে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে।

দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ বেশি। জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৯৩ হাজার জন আক্রান্ত হয়েছে; এ সময়ে মারা গেছে ৯৮ জন। 

ল্যানসেটের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে ২০১০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে জনস্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ আরো বেড়েছে। এর ফলে তারা ডেঙ্গু ঝুঁকি ৩১ শতাংশ কমিয়ে আনতে পেরেছে। এর বিপরীতে, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে ডেঙ্গু ঝুঁকি বেড়েছে। বাংলাদেশে ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ডেঙ্গু ঝুঁকি প্রায় ৩৯ শতাংশ কমে গিয়েছিল; কিন্তু ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে এই ঝুঁকি আবারও প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়ে গেছে।    

গবেষণায় বলা হয়, ডেঙ্গু ঝুঁকি নির্ণয়ের জন্য দুটি বিষয় (সূূচক) বিবেচনায় নেওয়া হয়। প্রথমটি হলো, ডেঙ্গু ছড়ানোর ক্ষেত্রে দুই ধরনের এডিস মশার (এডিস ইজিপ্টি ও এডিস অ্যালবোপিকটাস) উপযোগী জলবায়ুর উপস্থিতি। দ্বিতীয়টি হলো, ডেঙ্গু আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা। এই সক্ষমতা পরিমাপ করা হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত ইন্টারন্যাশনাল হেলথ রেগুলেশনস কোর ক্যাপাসিটি মনিটরিং ফ্রেমওয়ার্কের ভিত্তিতে। এই দুটি সূচকের ভিত্তিতে সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি ঝুঁকিপূর্ণ দেশে পরিণত হয়েছে।

বিশ্বের ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার তত্ত্বাবধানে ২০১৯ সালের ল্যানসেট কাউন্টডাউন গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এতে কাজ করেছেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন, যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটি, চীনের ইউনিভার্সিটি অব শিংগুয়া, সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব জেনেভা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্বব্যাংক প্রভৃতির ১২০ জন চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।

দ্য ল্যানসেট কাউন্টডাউনের নির্বাহী পরিচালক ও গবেষণা লেখক ড. নিক ওয়াটস বলেন, শিশুরা প্রধানত স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকে। কারণ তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তখনো যথাযথভাবে তৈরি হয় না। এমনই এক সময়ে শিশুর শরীরে যদি এ ধরনের সংক্রমণ ঘটে, তবে তার পুরো জীবনে এর একটি প্রভাব পড়ে। এ কারণে আগামী প্রজন্মের স্বার্থে গ্রিনহাউস গ্যাস (কার্বন ডাই-অক্সাইড) নিঃসরণের মাত্রা কমিয়ে আনা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা