kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাঘার সেই আমবাগান ভাড়া নিচ্ছে জেলা প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খোর্দ্দবাউসা গ্রামের আমগাছবাসী সেই পাখিগুলোর জন্য স্থায়ী নিবাস গড়তে পুরো আমবাগানই ভাড়া নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ফলে ‘বাড়ি ছাড়ার নোটিশ পাওয়া’ শামুকখোল পাখিগুলোকে এখন আর কেউ তাড়িয়ে দিতে পারছে না চাইলেই। তাদের জন্য এখন স্থায়ী আবাস গড়ে তোলা হচ্ছে ওই বাগানটিতেই। এরই মধ্যে পাখিগুলোর ওই আমবাগানের ভাড়া নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘পাখিগুলোর বাসা ভাড়া হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত আমবাগান ইজারাদার বছরে তিন লাখ ১৩ হাজার টাকা করে পাবেন। তবে শর্ত হলো পাখির বাসা ভাঙা যাবে না।’ এই চিঠি কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পেলেই পাখির স্থায়ী আবাস নিশ্চিত হবে বাঘায়।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, ‘ঘটনাটি নজরে আসার পরপরই পাখির বাসা রক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে হাইকোর্ট থেকেও নির্দেশনা আসে।’ তিনি জানান, এরপর জেলা প্রশাসক হামিদুল হকের নির্দেশে ওই আমবাগানে গিয়ে জরিপ চালানো হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন রেজার নেতৃত্বে বাগানে গিয়ে জরিপ করে মোট ৩৮টি গাছ চিহ্নিত করা হয়, যে গাছগুলোতে বাসা বেঁধেছে কয়েক হাজার শামুকখোল পাখি।

জরিপ শেষে ওই আমগাছগুলো থেকে বছরের সম্ভাব্য আম উৎপাদন ও আমের সম্ভাব্য দাম নির্ধারণ করা হয়। সে অনুযায়ী বছরে তিন লাখ ১৩ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের সুপারিশ করে কৃষি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। সেই প্রতিবেদন কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠান জেলা প্রশাসক।  

জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, ‘গত ৫ নভেম্বর পাখিদের জন্য বাসা ভাড়া চেয়ে প্রতিবেদন কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই টাকা আমবাগানের মালিক বা ইজারাদারকে দেওয়া হবে। ক্ষতিপূরণ পেলে কেউ পাখিগুলোকে আর বাসা থেকে তাড়াতে পারবেন না। যত দিন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, তত দিন পাখিরা সেই বাগানে নিরাপদেই থাকবে। পাখিদের জন্য প্রতিবছর এই ব্যয় বহন করবে সরকার। শিগগিরই প্রথমবারের মতো বাসা ভাড়ার টাকা ছাড় হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা