kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

সংসদে প্রধানমন্ত্রী

অপরাধ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অপরাধ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে

ফাইল ছবি

রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তর থেকে অপরাধ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘দুর্নীতির বিষবৃক্ষ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলে দেশের প্রকৃত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি সুশাসনভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ জন্য দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে রাজনৈতিক ব্যক্তি ছাড়াও সরকারি কর্মচারীসহ জড়িত সবার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ক্যাসিনো ও দুর্নীতির সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ যাতে কেউ করতে না পারে সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানের পাশাপাশি কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।’

আন্দোলন-নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি-জামায়াত জোটসহ একটি বিশেষ মহল রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে একটি বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তরীকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর এমন সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা ঠিক, রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টির পেছনে জিয়াউর রহমানের একটি হাত রয়েছে। কিন্তু আমরা সব সমস্যা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে বিশ্বাসী।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের পরিষ্কার অবস্থান হচ্ছে, যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে বা একটি জিনিস স্পষ্ট বলতে চাই, বাংলাদেশের মাটিতে কোনো দেশের বা প্রতিবেশী কোনো দেশের কারো কোনো রকমের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা কোনো রকম সন্ত্রাসীর কোনো অবস্থান বাংলাদেশের মাটিতে হবে না, এটা থাকবে না। এ ব্যাপারটা আমরা নিশ্চিত করেছি।’

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীন ও ভারতের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের অন্য এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে এই দুটি দেশের সঙ্গেই আমরা আলোচনা করেছি, রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছে, তারাও চেষ্টা করছে। শুধু ভারত বা চীনই নয়, মিয়ানমারের সঙ্গে যেসব দেশের স্থলসীমানা রয়েছে (ভারত-চীন-থাইল্যান্ড-লাওস) সেসব দেশের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। রোহিঙ্গা ইস্যুটি দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত, এ ব্যাপারে সবাই একমত পোষণ করেছেন।’

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এরূপ অভিযান অব্যাহত রাখতে দুর্নীতি দমন কমিশন সর্বদাই বদ্ধপরিকর। তা ছাড়া বাংলাদেশের কোন কোন ব্যক্তি সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনো খেলেছে, সে সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন সিঙ্গাপুর সরকারকে অনুরোধ করেছে। সব দুর্নীতিবাজকে আইনের আওতায় আনতে দুর্নীতি দমন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন খানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য আমার নিজের জীবনকে উত্সর্গ করেছি। দেশের মানুষের কল্যাণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রয়োজনে বাবার মতো আমিও জীবন উত্সর্গ করব।’

জঙ্গিবাদ-মাদক থেকে তরুণদের দূরে রাখতে

খেলাধুলায় জোর প্রধানমন্ত্রীর

এদিকে জঙ্গিবাদ আর মাদকের গ্রাস থেকে তরুণদের দূরে রাখতে খেলাধুলা চর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘শেখ রাসেল ইন্টারন্যাশনাল ক্লাব কাপ টেনিস টুর্নামেন্ট ২০১৯’-এর উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক এই সব কিছুর হাত থেকে আমাদের তরুণসমাজকে দূরে রাখতে হবে। আমরা যত বেশি তাদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় সম্পৃক্ত করতে পারব, ততই তারা এই ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকবে। নিজেদের চরিত্র গঠনে সচেষ্ট হবে এবং সুন্দরভাবে তারা জীবন যাপন করতে পারবে। আগামী দিনের বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য তারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় খুলনা জেলা প্রশাসন এই আন্তর্জাতিক টেনিস প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। এতে ১৮টি দেশ অংশ নিচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহিরয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা