kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

নিথর দেহগুলো মাটির বিছানায়

হবিগঞ্জ ও চাঁদপুর প্রতিনিধি   

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



যেকোনো শিশুর নিরাপদ স্থান মা-বাবার কোল। গত সোমবার রাতে এমনই নিরাপত্তার চাদর মুড়িয়ে উদয়ন এক্সপ্রেসে চেপে চট্টগ্রাম যাচ্ছিল শিশু আদিবা। হঠাৎ রাত পৌনে ৩টার দিকে সিলেট-চট্টগ্রাম পথের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মন্দবাগ রেলস্টেশনের ক্রসিংয়ে আন্ত নগর উদয়ন এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে শিশু আদিবা আক্তার সোহাসহ নিহত হয় অনেকে। আদিবার নিথর দেহ কয়েক ঘণ্টার জন্য ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসপাতালের লাশঘরে। তখন ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন আদিবার বাবা সোহেল মিয়া ও মা নাজমা আক্তার। আদিবার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের বড় বাজার এলাকায়। জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ নিয়ে আসা হয় আদিবার নানাবাড়ি সৈদারতুলা এলাকায়। বড়ইপাতার গরম পানিতে গোসল করানোর পর গত মঙ্গলবার রাতে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

এদিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলা গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর আলম তাঁর একমাত্র ছেলে ইয়াসিনকে কোলে বসিয়ে যাচ্ছিলেন চট্টগ্রাম। দুর্ঘটনার সময় তিনি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। যখন জ্ঞান ফেরে তখন তিনি খুঁজতে থাকেন ইয়াসিনকে। ইয়াসিন হাসপাতালে আছে বললে দুই ঘণ্টা পর তিনি উদ্ধারকারীদের সঙ্গে হাসপাতালে যান। পরে যখন জানতে পারেন ইয়াসিন আর নেই, তখন ক্ষতবিক্ষত শরীর নিয়ে তিনি হাসপাতাল থেকে চলে আসেন ছেলেকে দাফন করতে।

হবিগঞ্জে আদিবা ও ইয়াসিনসহ আটজনেরই দাফন শেষ হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি আলী মো. ইউসুফের দাফন মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামে করা হয়। চুনারুঘাটের উলুকান্দি গ্রামের ফটিক মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়ার (২০) দাফনও হয় ওই দিন বিকেলে। ওই উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের আবুল হাসিম মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া (৩০) ও তাঁর খালা রাজারবাজার গ্রামের কুলসুমা বেগমের (৪৫) দাফন হয় মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। বানিয়াচংয়ের মুরাদপুর গ্রামের আইয়ূব হোসেনের ছেলে আল-আমিনের (৩৫) দাফন হয় মঙ্গলবার রাতে। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সৈয়দাবাদ গ্রামের আজমত উল্লার ছেলে রিপন মিয়ার দাফনও হয় মঙ্গলবার রাতে।

যাত্রীদের মধ্যে ভীতি : হবিগঞ্জের সঙ্গে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ তেমন ভালো না হওয়ায় ট্রেনই সবার ভরসা।    শায়েস্তাগঞ্জের স্টেশন মাস্টার সাইফুল ইসলাম জানান, এ দুর্ঘটনায় হবিগঞ্জের বেশি লোক হতাহত হওয়ায় জেলায় ট্রেনযাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। রেল জংশনে কমে গেছে মানুষের উপস্থিতি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা