kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

অনির্দিষ্টকাল বন্ধে সবাই গ্যাঁড়াকলে

অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা। ফলে বিভাগগুলোতেও দীর্ঘমেয়াদি সেশনজটের আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণার প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে গ্যাঁড়াকলে পড়েছেন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে জীবিকা নির্বাহ করা বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষও আছে বিপাকে। অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা। ফলে বিভাগগুলোতেও দীর্ঘমেয়াদি সেশনজটের আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, দ্রুত সমস্যা সমাধান করে খুলে দেওয়া হোক ক্যাম্পাস। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শিগগিরই হল কিংবা ক্যাম্পাস খোলার কোনো সম্ভাবনা নেই।

আবাসিক হওয়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই হলে থেকে লেখাপড়া করেন। যেসব শিক্ষার্থী টিউশনি করিয়ে লেখাপড়ার খরচ চালান, হল বন্ধের পর সেসব শিক্ষার্থী টিউশনির কারণে ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে পারছেন না। বছরের শেষ দিকে হওয়ায় বেশির ভাগ স্কুল ও কলেজে চূড়ান্ত পরীক্ষার সময় হয়ে যাওয়ায়, অভিভাবকরাও প্রাইভেট টিউটরের অনুপস্থিতি স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছেন না। ক্যাম্পাসের আশপাশের এলাকাগুলোতে অবস্থান করেই পরিস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা করছেন অনেকে। তবে বেশির ভাগেরই একদিকে যেমন নেই খাবারের সুব্যবস্থা, অন্যদিকে নেই থাকার কোনো জায়গা। হল এবং খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় একরকম মানবেতর সময় পার করছেন এসব শিক্ষার্থী।

সরেজমিন ঘুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন আমবাগান, গেরুয়া, ইসলামনগর, কলাবাগান এলাকায় দেখা গেছে প্রায় প্রতিদিনই শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে ঘুরছেন থাকার জায়গার খোঁজ করতে। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার বন্ধ থাকায় চাকরির প্রস্তুতিমূলক পড়াশোনা করছেন, এমন শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন এই দলে। হঠাৎ করে বাসা ভাড়া করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য নেই অনেকেরই। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে তাঁদের প্রস্তুতিমূলক পড়াশোনা।

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ ইকবাল বলেন, ‘সবাই বাড়িতে চলে গেছে। টিউশনির কারণে বাড়ি যেতে পারছি না। এখানে থাকার কোনো জায়গা নেই, যাযাবরের মতো আজ এর কাছে কাল ওর কাছে থাকছি। বাইরে বেশি টাকা খরচ করে খাচ্ছি। বেতন পাওয়ার আগেই ধার করে সেই টাকা ব্যয় করছি। এভাবে কয় দিন চলা যায়?’

আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে যেমন ঠিকমতো ক্লাস ও পরীক্ষা হয়নি তেমনি বন্ধের কারণে বিভিন্ন বিভাগ দীর্ঘমেয়াদি সেশনজটের আশঙ্কায় রয়েছে। অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে বিভিন্ন বিভাগের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা। এরই মধ্যে প্রায় প্রতিটি বিভাগ ছয় থেকে এক বছরের সেশনজটের গ্যাঁড়াকলে পড়েছে। এ ছাড়া প্রশাসনিক জটিলতার কারণে আটকে গেছে অনেক শিক্ষার্থীর বিদেশ গমন, স্কলারশিপ কিংবা চাকরির জন্য জরুরি সনদপত্র তোলার কাজ।

এদিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ধরনের দোকান, খাবারের হোটেল এবং দোকানগুলোতে কর্মরত কর্মচারীরা কাজ না থাকায় বেকার সময় পার করছেন। অনেকেই ফিরে গেছেন নিজ জেলায়। শিক্ষার্থী এবং মানুষজন না থাকায় ক্যাম্পাসে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষেরাও আছে অসহায় অবস্থায়।

খাবারের হোটেলে কর্মরত সুজন মিয়া বলেন, ‘যা বেতন পাই তা থেকে কিছু টাকা বাসার জন্য রাখতাম। এখন সেই টাকা খরচ করে খাচ্ছি। সেই টাকা শেষ হইলে কী করব? আর এই মাস কাজ না করলে বাড়িত টাকা পাঠাব কিভাবে?’

এদিকে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীরা ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে সময়মতো শিক্ষাবর্ষ শুরু করতে পারবেন কি না, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাই কবে হল খুলবে তা সিন্ডিকেট সভা ছাড়া বলা সম্ভব নয়।

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ফিরোজ উল হাসান বলেন, ক্যাম্পাস বন্ধ হয়েছে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে। যখন পরিবেশ তৈরি হবে তখনই ক্যাম্পাস খুলে দেওয়া হবে।

দুর্নীতির অভিযোগে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে দুই মাস ধরে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ। গত ৫ নভেম্বর আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলায় ৩৫ জন আহত হলে ক্যাম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা