kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

সভাপতি-সম্পাদকের একতরফা সিদ্ধান্তে এমপিদের সঙ্গে বিরোধ

সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগের ১৪টি ইউনিটে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে মন্ত্রী ও সরকারদলীয় এমপিদের কৌশলে পাশ কাটাতে তোড়জোড় শুরু করেছেন জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এতে মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটি গঠনপ্রক্রিয়ায় যুক্ত নেতাদের। ফলে কমিটি থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, পৌনে চার বছর আগে গঠিত জেলা কমিটি গত অক্টোবরে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসে কেন্দ্রের নির্দেশনায় উপজেলা ও পৌরসভার ১৪টি ইউনিটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিলে উচ্ছ্বসিত হন নেতাকর্মীরা। কিন্তু উপজেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠনের পর থেকেই জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এনামুল কবির ইমনসহ দায়িত্বশীল নেতারা নিজেদের পছন্দের লোকদের পদে বসাতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েন। তাঁদের একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে বিভিন্ন উপজেলায় বঞ্চিত হন সরকার দলের সংসদ সদস্যদের অনুসারী নেতাকর্মীরা। এতে জেলা নেতাদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে সরকার দলের সংসদ সদস্যদের।

জানা যায়, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় সভাপতি সমর্থক আবুল কালাম চৌধুরী ও শামীম আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে কমিটি নিয়ে ঠাণ্ডা লড়াই চলছে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুহিবুর রহমান মানিকের। অতীত পক্ষপাতিত্বের কারণে এই দুই উপজেলায় মানিকের আস্থাভাজন হওয়ার কারণে গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবি থেকে ছিটকে পড়েছিলেন একাত্তরের রণাঙ্গনে সাহসী ভূমিকা রাখার জন্য বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত ইদ্রিস আলী। এর বিপরীতে উপজেলায় বিদ্রোহী ফরিদ আহমদ তারেককে দোয়ারাবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক করেন মতিউর রহমান। ছাতকেও প্রয়াত লুত্ফুর রহমান সরকারের মতো নিবেদিতপ্রাণ আওয়ামী লীগ নেতারা বঞ্চিত হন সভাপতির রোষানলে পড়ে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, এবারও ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগে এমপি মানিকের অনুসারী হওয়ায় অনেক ত্যাগী নেতা দলীয় পদ-পদবি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।

সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুহিবুর রহমান মানিক বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদের সহযোগী, ১৯৭৫ সালে মিষ্টি বিতরণকারী এবং দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়া দুর্নীতিবাজদের আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কেউ দেখতে চায় না।

আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত ছাতক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান জেলা নেতাদের মাধ্যমে তৃণমূলের প্রত্যাশা অনুযায়ী নিরপেক্ষ কমিটি গঠন সম্ভব নয়। কারণ তাঁরা সম্মেলনের নাম করে পরে ঘরে বসে পছন্দের লোকদের নিয়ে কমিটি গঠন শুরু করেছেন। কেন্দ্রের কাছে আমাদের চাওয়া হলো, তৃণমূলের ত্যাগীদের মূল্যায়নের জন্য জেলা নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন।’ তিনি আরো বলেন, একাত্তর ও পঁচাত্তরের সুবিধাভোগী ও দুর্নীতিবাজরাই ঘুরেফিরে কমিটি গঠনের দায়িত্বে রয়েছেন। নেত্রী যাঁকে যুবলীগ থেকে এনে তরুণ হিসেবে সাধারণ সম্পাদক করেছিলেন, তিনিই তাঁদের সঙ্গে মিশে গেছেন। ইউনিয়ন পরিষদ মনোনয়ন বাণিজ্য করে দলের ভরাডুবি ঘটিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। তিনি বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে সর্বজন গ্রহলযোগ্য সৎ ও স্বাধীনতার পক্ষের কাউকে আহ্বায়কের দায়িত্ব দিয়ে উপজেলাগুলোতে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিলে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা মূল্যায়িত হবেন।

দলীয় সূত্র মতে, পৌর আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সবাই ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ প্রয়াত আয়ুব বখত জগলুলের পছন্দের। তাঁর অনুপস্থিতিতে কমিটিতে নিজেদের অনুসারীদের বসাতে চাইছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এমন কথা এখন রাজনীতিতে চাউর।

সুনামগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজিদুর রহমান বলেন, ‘সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও জেলার দায়িত্বশীলরা এখনো আমাদের সাথে কোনোরূপ যোগাযোগ করেননি। এতেই বোঝা যাচ্ছে, তাঁরা আমাদের বাদ দিয়ে কমিটি গঠন করতে চাইছেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা