kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

মাইকে ফুঁ দিয়ে কবিরাজি

নেপথ্যে ২৫-৩০ লাখ টাকার তেল-পানি বাণিজ্য!

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরপলাশ গ্রামে ‘কথিত’ কবিরাজ সবুজ মিয়ার চিকিৎসা-সভা নিয়ে তোলপাড় চলছে জেলাজুড়ে। তেল ও পানি বেচে এ সভা থেকে আয়োজকদের অন্তত ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার বাণিজ্য হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় লোকজনের কেউ কেউ বলছে, বাণিজ্যের জন্যই আয়োজন করা হয় এই চিকিৎসা-সভা। তবে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সরেজমিনে চরপলাশ গ্রামে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

চরপলাশ গ্রামের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কবিরাজের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে এ বাণিজ্যের ছক সাজানো হয়। গত শনিবার এখানে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ হাজার লোক বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় সমবেত হয়। তাদের প্রায় সবাই আয়োজকদের বসানো দোকান থেকে পানি ও তেল কেনে। প্রতি বোতল পানি ২৫ টাকা এবং প্রতি শিশি তেল ৩০ টাকা করে বিক্রি হয়। এ হিসাবে কম করে হলেও ২৫ লাখ টাকা আয় হয়েছে আয়োজকদের। এ ছাড়া সমাবেশস্থলে আরো বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট ছিল। এগুলোও আয়োজকদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

আরেকজন জানালেন, যেখানে সমাবেশ করা হয়েছে সেখানে স্থানীয় মঞ্জু মিয়ার কাঁচা-পাকা ধানের ক্ষেত ছিল। সেই ক্ষেত মালিককে ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে আয়োজকরা কবিরাজের আসর বা কথিত চিকিৎসা-সভার আয়োজন করেন। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, অর্ধশতাধিক প্রভাবশালী লোকের সমন্বয়ে গঠিত হয় এ আয়োজক কমিটি, যাদের বেশির ভাগই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী।

আয়োজকদের একজন সাবেক পুলিশ সদস্য চরপলাশ গ্রামের মো. সুমন। তিনি দাবি করেন, কোনো কমিটি নয়, স্থানীয় লোকজনের কবিরাজের বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা নিতে অসুবিধা হয় বিধায় এখানে এ আয়োজন করা হয়। তারা এই কবিরাজের ভক্ত। কবিরাজের পানিপড়া ও তেলপড়া ব্যবহারে অনেকে উপকৃত হয়েছে। এ কারণেই এত লোকের সমাগম। তিনি বলেন, কবিরাজ চিকিৎসার জন্য কোনো টাকা-পয়সা নেন না। তিনি নিজের খরচে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে লোকজনের সেবা করেন। যারা উনার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে তারা মূলত সাধারণ মানুষের ভালো চায় না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা