kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

টিকিটের নয়ছয়ে মাস্টারের ছায়া!

সান্তাহার জংশন রেলস্টেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বগুড়ার সান্তাহার জংশন রেলস্টেশনে টিকিটের নয়ছয় কিছুতেই থামছে না। টিকিট বিক্রির পদ্ধতি যত আধুনিক হচ্ছে, অপকর্মের ধরনও ততটাই পাল্টাচ্ছে। এসব অপকর্মে স্টেশন মাস্টার রেজাউল করিম ডালিম ছায়া হিসেবে আছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রেলওয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীও রয়েছেন তাঁর সঙ্গে। এর ফলে ১০ দিন আগে অগ্রিম টিকিট ছাড়ার পর থেকেই তা কালোবাজারিদের কবজায় চলে যায়।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, সান্তাহার জংশন  রেলস্টেশন দিয়ে প্রতিদিন আন্ত নগর ও লোকাল মিলে ৪০টি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে। ফলে এ স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। স্টেশনটি তিন জেলার সীমানা এলাকায় হওয়ায় টিকিটের চাহিদা থাকে প্রচুর। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে এখানে সক্রিয় হয়ে উঠেছে কালোবাজারিচক্র। এ কারণে বর্তমানে ট্রেনের সংখ্যা বাড়লেও যাত্রীরা কাউন্টারে তাদের কাঙ্ক্ষিত টিকিট পাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের এক কর্মকর্তা জানান, স্টেশন মাস্টার জড়িত থাকার কারণে টিকিট কালোবাজারিরা দাপটের সঙ্গে প্রকাশ্যেই টিকিট বিক্রি করছে। বুকিং অফিস ও প্ল্যাটফর্মে দুজন করে মোট চারজন কালোবাজারিকে দিয়ে তাদের মাধ্যমে টিকিটগুলো বিক্রি করানো হয়। দালালদের অনেকে আবার বুকিং অফিসের কম্পিউটারে বসে টিকিট চেক করে থাকে। প্রয়োজনে টিকিটগুলো বের করে নিয়ে এসে বাইরে বিক্রি করে। স্টেশন মাস্টারের ছত্রচ্ছায়ায় এই ঘটনাগুলো হওয়ায় কেউ কিছু বলতে পারে না।

যাত্রী রোজী আক্তার বলেন, ‘সিট পাওয়ার আশায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকায় কালোবাজারিদের কাছ থেকে টিকিট কিনেছি।’

সরেজমিনে বুকিং অফিসে গিয়ে দেখা যায়, কাউন্টারের প্রবেশমুখে ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের দুটি টিকিট বিক্রয় হবে’ লিখে মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে লাগানো রয়েছে একটি পোস্টার, যা রেলওয়ের নিয়ম-নীতিপরিপন্থী।

সান্তাহারের স্টেশন মাস্টার রেজাউল করিম ডালিম বলেন, ‘স্টেশনটি ক্লিন রাখার চেষ্টা করছি। এতে কিছু মানুষ আমার বিরোধিতা করে। আর টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে আমি কিংবা আমার অফিসের কেউ জড়িত না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা