kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

তুরিন আফরোজকে অপসারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তুরিন আফরোজকে অপসারণ

পেশাগত শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও গুরুতর অসদাচরণের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পদ থেকে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে অপসারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল সোমবার আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর শাখা থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। অভিযোগ ওঠে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তকালে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে তুরিন আফরোজ বৈঠক করেন। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের ওপর তদন্ত শেষে আইন মন্ত্রণালয় গতকাল সিদ্ধান্ত দিল। তবে তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তকালেই তাঁকে ট্রাইব্যুনালের সব কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়।

তুরিন আফরোজকে অপসারণের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বেগম তুরিন আফরোজকে শৃঙ্খলা ও পেশাগত আচরণ ভঙ্গ এবং গুরুতর অসদাচরণের দায়ে ২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপনে প্রদত্ত নিয়োগ বাতিলক্রমে প্রসিকিউটর পদ থেকে অপসারণ করা হলো।

অপসারণের বিষয়ে তুরিন আফরোজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুনেছি, আমাকে অপসারণ করে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আমি শুধুই এইটুকু বলব, আমি ট্রাইব্যুনালে থাকাকালে শতভাগ দায়িত্ব পালন করেছি। আমার জানামতে বিশ্বাস ভঙ্গের মতো এমন কোনো কিছুই করিনি।’ তিনি বলেন, ‘কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়েই অপসারণ করা হয়েছে।’ এ বিষয়ে আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানাব।’ মোবাইল ফোনে এই প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। এর চেয়ে বেশি কিছু তিনি বলতে পারেননি।

এদিকে তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধিতার অভিযোগ এনেছেন ট্রাইব্যুনালের আরেক প্রসিকিউটর জিয়াদ আল মালুম। তিনি বলেছেন, ‘শুধুই পেশাগত অসদাচরণ নয়, তিনি ফৌজদারি অপরাধও করেছেন। তাঁর কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রবিরোধিতার শামিল। কারণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। তাই তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্র শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা করি।’

ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তকালে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে ওয়াহিদুল হকের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ২০১৭ সালের ১৯ নভেম্বর গুলশানে একটি রেস্তোরাঁয় ওয়াদুিল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। এই বৈঠক থেকে তুরিন আফরোজ তাঁকে পালিয়ে যেতে বলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় তদন্ত করে। এই অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে ট্রাইব্যুনালের মামলা দেখভালের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর অভিযোগটি তদন্তের জন্য তুরিন আফরোজ ও ওয়াহিদুল হকের কথোপকথনের সিডিসহ আইন মন্ত্রণালয়ে নথি পাঠান চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু।

ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ৫ ডিসেম্বর তদন্ত শুরু করেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান। তদন্ত সম্পন্ন করে ওই বছরের ৩০ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এই তদন্তের ভিত্তিতে গত বছরের ২৪ এপ্রিল ওয়াহিদুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরের ৭ মে এক আদেশে তুরিন আফরোজকে ওয়াহিদুল হকের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এদিকে গত ১৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে রংপুর সেনানিবাস সংলগ্ন এলাকায় ৫০০ থেকে ৬০০ নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা, বাড়িঘরে আগুন ও পেট্রল দিয়ে নিহতদের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ গঠন করার মধ্য দিয়ে তাঁর বিচার শুরু হয়। আগামী ২৪ নভেম্বর সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা