kalerkantho

মঙ্গলবার। ৫ মাঘ ১৪২৭। ১৯ জানুয়ারি ২০২১। ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

কোটিপতি সার্ভেয়ার

আতাউর রহমান পিন্টু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)   

১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কোটিপতি সার্ভেয়ার

গত বুধবার কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

পদের নাম সার্ভেয়ার। কর্মস্থল দিনাজপুর জেলা পরিষদ। কত টাকাই বা বেতন পান! এর চেয়ে তাঁর উপরি কামাই বেশি। সেটা যেমন ঘুষ নিয়ে কাজ করা, তেমনি অন্যকে চাকরি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা নেওয়া। এভাবে কোটিপতি বনে গেছেন আল আমিন। তাঁর বাড়ি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার চর আন্ধারমানিক গ্রামে।

আল আমিন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে এখন আটক। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর গ্রামের বাড়িতে পাওনাদারদের ভিড় পড়ে গেছে। মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে যাদের চাকরি দিতে চেয়েছিলেন, তারা যাচ্ছে খোঁজ নিতে। চাকরি তো দূরের কথা, এখন টাকা হারানোর আশঙ্কায় পড়েছে বহু মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমিন ওই গ্রামের জলিল মোল্লার ছেলে। জলিলের তিন ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে। আমিন ভাইদের মধ্যে সবার ছোট। তিনি সার্ভেয়ার পদে চাকরি করলেও এলাকায় এলজিইডির জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে পরিচয় দেন। গত ৫ নভেম্বর ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় দিনাজপুর জেলা পরিষদে দুদকের হাত ধরা পড়েন। এরপর শাহজাদপুরে এ নিয়ে শোরগোল পড়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাবনা, সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছ থেকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আমিন। তিনি সার্ভেয়ারের চাকরি পাওয়ার পর সাত-আট বছরের মধ্যে এ টাকা নিয়েছেন। এ টাকা দিয়ে পাবনা শহরে ৮ শতাংশ জমি কিনেছেন। এ ছাড়া এলাকায় প্রায় ১২ বিঘা ফসলি জমি কিনেছেন। গ্রামের বাড়িতে বিশাল ডেইরি ফার্ম গড়ে তোলেন। টিনের ছাপরা ঘর ভেঙে দুটি টিনশেড পাকা ঘর তোলেন। তবে দুদকের হাতে ধরা পড়ার পর তাঁর খামার থেকে গরু ও বাড়ি থেকে মূল্যবান আসবাব সরিয়ে ফেলেছে স্বজনরা।

শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নের সোনতোষা গ্রামের আব্দুল হালিম জানান, স্ত্রী শাপলা খাতুনকে দিনাজপুর জেলা পরিষদে সাঁটলিপি করণিকের চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা নেন সার্ভেয়ার।

একই ইউনিয়নের বড় ধুনাইল গ্রামের আলাউদ্দিন জানান, দিনাজপুর জেলা পরিষদে হিসাবরক্ষণ পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে তাঁর কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এ ছাড়া তাঁর গ্রামের পাশে পাবনার বেড়া উপজেলার বনগ্রামের আব্দুল্লাহকে দিনাজপুরে সমাজসেবা অফিসে চাকরি দেওয়ার নাম করে তাঁর কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেন। বেড়া উপজেলার বৃশালিকা গ্রামের আমানত ও বনগ্রামের নূর হোসেনকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা নেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই গ্রামের এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, ‘বাবা জলিল প্রামাণিক কামলা বিক্রি করে ছেলে আল আমিনকে লেখাপড়া শেখান। সেই ছেলে অন্যায় পথে টাকা রোজগার করতে গিয়ে এখন জেলহাজতে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় দিনাজপুরের উপপরিচালক আবু হেনা আশিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা তাঁর সম্পদের সন্ধান করব। আর যাঁরা চাকরি পেতে টাকা দিয়েছেন, তাঁরা দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় পাবনায় লিখিত অভিযোগ দিতে পারেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা