kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাদলের মরদেহে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী স্পিকারের শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাদলের মরদেহে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী স্পিকারের শ্রদ্ধা

সদ্য প্রয়াত সংসদ সদস্য মইন উদ্দীন খান বাদলের মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে টানেলে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। এর আগে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার ছাড়াও ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে হুইপরা, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষে মো. ফখরুল ইমাম, ১৪ দলের পক্ষ থেকে মুখ্য সমন্বয়ক মো. নাসিমের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় নেতারা এবং জাসদের পক্ষ থেকে শিরীন আখতারসহ দলীয় নেতারা প্রয়াত বাদলের কফিনে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।

এর আগে মরহুমের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে স্মৃতিচারণা করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম ও পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর ছেলে তাইমুর নূর। পরে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এরপর বাদলের মরদেহ চট্টগ্রামের বাসভবনের উদ্দেশে নেওয়া হয়।

মইন উদ্দীন খান বাদল বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী সভাপতি ছিলেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসনে ১৪ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে নিজ দল থেকে নির্বাচন করে জয়ী হন তিনি। তবে তাঁর দল নিবন্ধিত না হওয়ায় সংসদে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে গণ্য হন তিনি। তিনি গত ৭ নভেম্বর ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে চট্টগ্রাম-৮ আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে জানাজায় হাজারো মানুষ

চট্টগ্রাম থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, গতকাল চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদে মইন উদ্দীন খান বাদলের জানাজায় মানুষের ঢল নামে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি, সংসদ সদস্য আবু রেজা মোহাম্মদ নিজামুদ্দিন নদভী ও মাহফুজুর রহমান মিতা, বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান প্রমুখ জানাজায় অংশ নেন। 

জানাজার পর সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মইন উদ্দীন খান বাদলের মরদেহ মসজিদ প্রাঙ্গণে রাখা হয়। সেখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদসহ বিভিন্ন দল-সংগঠন ও নানা শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ ফুল দিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানায়। জানাজার পর এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়।

বাদলের মরদেহ বহনকারী গাড়ি বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছে। বাদ আসর থেকে বিভিন্ন দল, শ্রেণি-পেশার মানুষ নগরের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে উপস্থিত হতে শুরু করে। বৃষ্টির কারণে মসজিদে জানাজার ব্যবস্থা করা হলেও মসজিদের বাইরেও অনেকে জানাজায় অংশ নেয়।

মরদেহ মসজিদ প্রাঙ্গণে পৌঁছানোর আগে কয়েকজন রাজনীতিক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তাঁদের কারো কারো বক্তব্যে বাদলের নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতু নির্মাণের বিষয়টিও উঠে আসে। ওই সময় তাঁরা দ্রুত কালুরঘাট সেতু নির্মাণ এবং সেতুটি মইন উদ্দীন খান বাদলের নামে নামকরণের দাবি জানান।

পারিবারিক কবরস্থানে দাফন : এদিকে দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে বাদলের মরদেহ বহনকারী গাড়ি তাঁর নির্বাচনী এলাকা ও গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর উদ্দেশে রওনা হয়। রাতে বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম কলেজ মাঠে তৃতীয় এবং সারোয়াতলী ইব্রাহীম নূর মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চতুর্থ জানাজা শেষে মইন উদ্দীন খান বাদলকে পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার পাশে দাফন করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা