kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সিলেটে বিএনপির মিছিলে লাঠিপেটা

এ ঘটনায় অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে

সিলেট অফিস   

১০ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিলেটে বিএনপির মিছিলে লাঠিপেটা

সিলেটে যুবদলের ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে গতকাল বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের একাংশ বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি বাতিল, ‘দালাল’দের হাত থেকে সিলেট বিএনপিকে রক্ষা এবং দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সিলেটে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর একাংশের যৌথ বিক্ষোভ মিছিলে লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার দুপুর ২টার দিকের এ ঘটনায় অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ২টার দিকে নগরের মীরাবাজার এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর একাংশের বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। একই সময় নগরের বিভিন্ন স্থান থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের একটি অংশ। মীরাবাজার এলাকা থেকে মিছিল নগরের চৌহাট্টার সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অভিমুখে রওনা হলে একাধিক স্থানে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। কোতোয়ালি থানার ওসি মো. সেলিম মিয়া ও সোবহানীঘাট ফাঁড়ি ইনচার্জ অনুপ কুমার দেবের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মীরাবাজারে জামায়েত হওয়া নেতাকর্মীর মিছিলকে বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ মিছিলকারীদের কয়েক দফা লাঠিপেটা করে। এতে দলের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন বলে দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। আহতদের মধ্যে রিনুক আহমদ, মুহিবুর রহমান মুহিন, নুরুল আমিন, রনি আহমদ, সেলিম আহমদ, ইমন আহমদ, মুর্শেদ আলম ও জুনেদ আহমদের নাম জানা গেছে।

পরে নগরের নয়াসড়ক পয়েন্টে সিলেট জেলা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল বাহার চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আজমল হোসেন রায়হানের পরিচালনায় প্রতিবাদসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তারা অবিলম্বে যুবদলের ‘বিতর্কিত’ আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘সরকারের নীলনকশা বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় বিএনপি’র ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী এজেন্টদের ইশারায় পুলিশ আজকের এই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে বেপরোয়া লাঠিচার্জ করেছে।’ সিলেট বিএনপি এখন দালালদের খপ্পরে দাবি করে তাঁরা বলেন, ‘বিভিন্ন পকেট কমিটি গঠনের মাধ্যমে সিলেট বিএনপি পরিবারকে আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন, দেশনায়ক তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

সভায় বক্তব্য দেন জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিকুর রহমান সাদিক, বিএনপি নেতা সৈয়দ জয়নুল হক, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মাহবুবুল হক চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শাকিল মুর্শেদ, জেলা বিএনপির সাবেক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মতিউল বারী খুর্শেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মওদুদুল হক মওদুদ প্রমুখ।

যোগাযোগ করা হলে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ওসি মো. সেলিম মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তাদের মিছিলের অনুমতি ছিল না। তারা আমাদের বলেছিল, আলাদা আলাদাভাবে গিয়ে তারা মালঞ্চ কমিউনিটি সেন্টারে ইনডোর অনুষ্ঠান করবে। কিন্তু তারা মিথ্যাচার করে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, মাইকযোগে মিছিল বের করে। ফলে আমরা বাধ্য হয়ে নাইওরপুল এলাকায় তাদের বাধা দিই। তারা ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করলে আমরা তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা