kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

লোহাগড়া থানায় বাদী চোখ বেঁধে নির্যাতন করলেন বিবাদীকে

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নড়াইলের লোহাগড়া থানা ভবনের দোতলায় শিহাব মল্লিক (২৭) নামে এক ব্যবসায়ীকে হাতকড়া পরিয়ে চোখ বেঁধে দারোগার নেতৃত্বে মামলার বাদীসহ দুই ভাই মিলে নির্মম নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতনের শিকার শিহাব মল্লিককে লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের এনামুল মল্লিকের ছেলে লোহাগড়া বাজারের টিভি-ফ্রিজ ব্যবসায়ী শিহাব অভিযোগ করে বলেন, ‘২০১৭ সালের ৩০ জুলাই একই গ্রামের বদরুল মল্লিক, মনিরুল মল্লিক ও খায়রুল ইসলাম মল্লিক প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা নিয়ে আমাকে সৌদি আরব পাঠায়। সেখানে আকামা (ওয়ার্ক পারমিট) করতে তাঁরা অতিরিক্ত তিন লাখ টাকা নেয় এবং আরো চার-পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। চুক্তি অনুযায়ী আমাকে কাজ না দেওয়ায় আমি অসহায় হয়ে পড়ি। উপায়ান্তর না পেয়ে চলতি বছর ১০ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরে আসি।’ শিহাব আরো বলেন, ‘গত ২ নভেম্বর আমার কাছে ফোনে খবর আসে যে আমার বাবাকে মনিরুল ও খায়রুল আটকিয়ে রেখেছে। এরপর বিকেলে আমি বদরুলকে গোপীনাথপুর গ্রামে পেয়ে একটি বাড়ি মারি। এ ঘটনায় তার ভাই মনিরুল বাদী হয়ে ৩ নভেম্বর লোহাগড়া থানায় আমার ও আমার মায়ের নামে মামলা করে। পুলিশ ৩ নভেম্বর রাত ৮টায় আমাকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। ৪ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আমাকে থানা ভবনের দোতলায় নিয়ে যান এসআই নুরুস সালাম সিদ্দিক এবং মনিরুল মল্লিক ও খায়রুল মল্লিক। তাঁরা হাত উল্টো করে হাতকড়া পরিয়ে চোখ বেঁধে আমাকে আধাঘণ্টা মারধর করেন। এরপর দুপুর ১২টার দিকে আমাকে আদালতে পাঠান।’

শিহাব বলেন, ‘আমি বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) জামিনে এসে সন্ধ্যায় লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তি হই।’ তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর সামনেই মনিরুল ও খায়রুল খামে করে দারোগাকে মোটা টাকা ঘুষ দেয়। এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই সিদ্দিক বলেন, ‘আমি শিহাবকে গ্রেপ্তার করেই আদালতে পাঠিয়েছি। নির্যাতন করিনি। জামিনে এসে এখন উল্টাপাল্টা বলছে।’ লোহাগড়া থানার ওসি মোকাররম হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা