kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আইন অনুযায়ী নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়ার কথা

পৌর কর্মচারীদের বেতনের জন্য রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ ২৫ কোটি টাকা

মোশতাক আহমদ   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা পৌরসভাগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সম্প্রতি এ বরাদ্দের প্রথম কিস্তির সাড়ে ছয় কোটি টাকা পৌরসভাগুলোতে পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পৌর-২ শাখা থেকে এ বরাদ্দের চিঠি পৌরসভাগুলোতে পাঠানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী নিজেদের আয়ে চলার কথা পৌরসভাগুলোর। কিন্তু নিয়মবহির্ভূতভাবে লোকবল নিয়োগ, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি না হওয়াসহ নানা কারণে বেতন-ভাতা বন্ধ ছিল দেশের ৩২৮টি পৌরসভার কর্মচারীদের।

এদিকে বেতন বরাদ্দ বিষয়ে পৌর-২ শাখার উপসচিব ফারজানা মান্নান স্বাক্ষরিত ওই পত্রে প্রথম শ্রেণির পৌরসভার জন্য দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য এক লাখ ৮০ হাজার ও তৃতীয় শ্রেণির জন্য এক লাখ ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়ার কথা উল্লেখ হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এ বরাদ্দ কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

এদিকে সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেই দেশের পৌরসভাগুলোতে। উল্টো চালু আছে ঢালাও কর মওকুফের সংস্কৃতি। দেশের শতকরা ৭৬ ভাগ পৌরসভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বাকি আছে দুই মাস থেকে ৩৪ মাসের। বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং চাকরি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে গত মার্চ মাসে আন্দোলনে নামেন পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

জানা গেছে, দেশের ৩২৮টি পৌরসভার ৩২ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন পরিশোধ করতে বছরে প্রয়োজন শত কোটি টাকা। এ অর্থের মাত্র ০.৪৫ শতাংশ দেয় সরকার, বাকি অংশ পরিশোধ করার কথা পৌরসভার নিজস্ব আয় থেকে। কিন্তু নিজস্ব আয় বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেই পৌরসভায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের।

পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা যায়, শতকরা ৭৬ ভাগ পৌরসভাই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন দিতে পারছে না। পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া পড়েছে ৫১৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া গত এক বছর সময়ের মধ্যে পৌরসভার যে ৭৬৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অবসরে গেছেন, তাঁদের অবসরকালীন অর্থ পরিশোধ করতে প্রয়োজন ১২৫ কোটি টাকা। দেশের একটি পৌরসভাও এ অবসরকালীন অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না অর্থের অভাবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের এ বরাদ্দ পর্যাপ্ত না হলেও পৌরসভার কর্মচারীদের কিছুটা বেতন-ভাতা পরিশোধ করা যাবে। তবে আগামীতে নিজেদের স্বনির্ভরতা অর্জন করতে হবে। সে জন্য সেবার মানও বাড়াতে হবে। কারণ নাগরিকরা সেবা না পেলে রাজস্বও সেভাবে দিতে চাইবে না।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় পৌরসভা হওয়ার অযোগ্য ও পশ্চাৎপদ এলাকাকে পৌরসভা করা, জনপ্রতিনিধিদের সস্তা জনপ্রিয়তার আশায় ঢালাও কর মওকুফ করা এবং টেন্ডার ও ইজারা গোপনে নিজস্ব লোকদের দিয়ে দেওয়ার কারণেই পৌরসভাগুলোর এমন আর্থিক সংকট। তাঁরা বলেন, প্রায় ক্ষেত্রে টেন্ডার ও ইজারা থেকে প্রাপ্ত আয় পৌরসভার তহবিলের বদলে মেয়র ও কাউন্সিলরদের পকেটে জমা হয়।

তাঁদের মতে, আইনকে পাশ কাটিয়ে যেসব জনপদকে পৌরসভা করা হয়েছে, সেসব ইউনিয়ন পরিষদ থাকাই ভালো ছিল। পৌরসভাগুলোর আয়-ব্যয়ের খাত পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৮৫টি পৌরসভার বার্ষিক আয় ৩৫ লাখ টাকার নিচে। অথচ এসব পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বার্ষিক বেতনের পরিমাণ ওই আয়ের দেড় গুণ থেকে তিন গুণ পর্যন্ত। দেশের পৌরসভাগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ৩৫ হাজার ১৩৪ জন। এর মধ্যে স্থায়ী কর্মী ১২ হাজার ৬৯৬ জন। অন্যরা চুক্তিভিত্তিক কর্মী।

স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর ৫ ধারায় পৌরসভাকে সরকারের একটি প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আইনের ৯১(৪-এর ক) ধারায় বলা আছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা পৌরসভার তহবিল থেকে দিতে হবে। কিন্তু মেয়রদের ব্যর্থতার কারণে এখন সরকারকেই বেতন-ভাতার জোগান দিতে হচ্ছে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা