kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকার তিন সড়ক

মুখ থুবড়ে রিকশা বন্ধের উদ্যোগ

শাখাওয়াত হোসাইন   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীর তিন সড়কে রিকশা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত থেকে কার্যত সরে দাঁড়িয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। তিন সড়কে রিকশা নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি সংস্থা দুটি। প্রতিটি সড়কে নির্বিঘ্নে চলছে রিকশা। এতে বাড়ছে যানজট। গত কয়েক দিনে রিকশা নিষিদ্ধ করা তিনটি সড়ক ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

জানা গেছে, কুড়িল-মালিবাগ-খিলগাঁও-সায়েদাবাদ, গাবতলী-আজিমপুর এবং সায়েন্স ল্যাব-শাহবাগ—এই তিন সড়কে রিকশা নিষিদ্ধ করা হয় গত ৭ জুলাই। ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কন্ট্রোল অথরিটির (ডিটিসিএ) সভা শেষে গত ৩ জুলাই যানজট নিরসনে তিন সড়কে রিকশা নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন। এরপর একই রকম ঘোষণা আসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলামের কাছ থেকে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল ট্রাফিক পুলিশও। পরে দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে দফায় দফায় সভা হয় রিকশা মালিক ও শ্রমিকদের সংগঠনের। ওই সব সভা শেষে রিকশা শ্রমিক ও মালিকরা আন্দোলনে নামেন। গত ১০ জুলাই তাঁরা বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে কার্যত অচল করে রাখেন রাজধানী। এরপর শুধু লাইসেন্স নেওয়া রিকশা চলতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সিটি করপোরেশন। এ ছাড়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিকশার একটি ডাটা বেইস চালু করার ঘোষণা দেওয়া হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। কিন্তু কোনোটিই আলোর মুখ দেখেনি। কোনো ঘোষণা না দিয়েই ওই তিন সড়কে রিকশা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ায় দুই সিটি করপোরেশন। সড়কে চলাচল করা বেশির ভাগ রিকশারই কোনো লাইসেন্স নেই।

সরেজমিনে ঘুরে গাবতলী-আজিমপুর, সায়েন্স ল্যাব-শাহবাগ এবং কুড়িল-সায়েদাবাদ সড়কে রিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে। সায়েদাবাদ এলাকায় রিকশা কম দেখা গেলেও সায়েন্স ল্যাব, জিগাতলা, আজিমপুর, শাহবাগ এলাকায় সড়কে রিকশার সংখ্যাই বেশি। এ ছাড়া কুড়িল বিশ্বরোড থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত রাস্তাজুড়েই দেখা যায় রিকশার আধিক্য। কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের সামনেই চলছে এই ‘অমানবিক’ যান। সড়কে ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা করছেন না রিকশাচালকরা। আইন অমান্যকারী অন্যান্য যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া গেলেও রিকশাচালকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না পুলিশ। রিকশা চলাচলের জন্য দড়ি দিয়ে আলাদা লেন তৈরি এবং মহাসড়কসংলগ্ন সার্ভিস রোড খুলে দেওয়ার কথা বলা হলেও তা করা হয়নি। সড়কজুড়ে বিচরণ করছে রিকশা। কয়েকটি বাসের চালক জানান, রিকশার কারণে ব্যস্ততম সড়কে ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের গতি কমে যায়।

সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকার রিকশাচালক মতিউর মিয়া গত ২১ অক্টোবর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রিকশা না চালাইলে ফেট কেমনে চইলবো। সরকার কয়ডা রিকশা নিষেধ কইরবো। হাজার হাজার রিকশা চলে তিনডা বড় সড়কে।’ বৈধ লাইসেন্স আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘লাইসেন মালিকের ব্যাফার। তবে হুনছি গুলিস্তান থাইকা লাইসেন দেয় ইনশুর আলী।’

দুই সিটি করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, নানা জটিলতার কারণে রিকশা নিষিদ্ধ করা যায়নি। তাঁদের মতে, তবে ঢাকার সড়কে গতি ফেরাতে মূল সড়কে রিকশা অবশ্যই নিষিদ্ধ করা উচিত। এ ছাড়া রাজধানীর যানজট নিরসন করা সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন ধরে রিকশা চলাচলের কারণে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। আগে এই সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে।

ডিএসসিসির সদ্য সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রিকশা নিষিদ্ধ করার পরও বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। তবে এ ব্যাপারে আরো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না তা আমার জানা নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা