kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

টঙ্গীর ফ্লাইওভারের নিচটাই ডাস্টবিন!

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টঙ্গীর ফ্লাইওভারের নিচটাই ডাস্টবিন!

টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার ফ্লাইওভারের নিচে সব সময়ে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা নিষেধ। অন্যথায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে’—এমন সাইনবোর্ড টঙ্গীর বিভিন্ন স্থানে সাঁটানো ছিল। কয়েক দিন পরই সাইনবোর্ড থেকে ‘নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া যেখানে-সেখানে’ কথাটি কালো কালি দিয়ে মুছে দেওয়া হয়। কারণ গাজীপুর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ এখনো ময়লা ফেলার কোনো নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করেনি।

টঙ্গীতে ডাস্টবিন নেই, তাই ময়লা ফেলা হয় যেখানে-সেখানে। ভোরে রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় ময়লা-আবর্জনা। ড্রেন ও ড্রেনের ওপর স্লাবে জমে থাকে আবর্জনা।

টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার ফ্লাইওভারের নিচে যেন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। আশপাশের এলাকার লোকজন সেতুর নিচে অবাধে ফেলছে আবর্জনা। এই ময়লা না সরানোর কারণে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।

১৯৭৪ সালে টঙ্গী পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর এলাকায় কিছু ডাস্টবিন তৈরি করা হয়েছিল। সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে এসব ডাস্টবিন বিলুপ্ত হয়ে যায়। ২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর টঙ্গীতে কোনো ডাস্টবিন তৈরি করা হয়নি। ছয় বছরে এলাকার আবর্জনা অপসারণে সুষ্ঠু কোনো ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়নি।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, টঙ্গী অঞ্চলে প্রতিদিন ১৫০ টনের বেশি বর্জ্য জমা হয়। সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে এসবের বেশির ভাগই ড্রেন অথবা যত্রতত্র পড়ে থাকে। বর্জ্য অপসারণে সিটি করপোরেশনের যে কয়টি গাড়ি আছে, তা শুধু বড় রাস্তার পাশের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করে। কিন্তু এসব গাড়ি স্থানীয় আবাসিক এলাকার অলিগলিতে ঢোকে না। সরুপথে প্রবেশ করে এলাকার ভেতর থেকে ময়লা নিয়ে আসার মতো কোনো ভ্যানগাড়ির ব্যবস্থা না থাকায় এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে ড্রেনে অথবা রাস্তার পাশে আবর্জনা ফেলে।

টঙ্গীতে আবর্জনা ফেলার ডাম্পিংয়ের জায়গা না থাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে হোসেন মার্কেট ও টেলিফোন শিল্প করপোরেশনের সামনে এত দিন আবর্জনা ফেলা হতো। সম্প্রতি মহাসড়কে নির্মাণকাজ চলার কারণে তা বন্ধ রয়েছে।

নতুন বাজার এলাকার ফল ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম বলেন, ফ্লাইওভারের নিচে আবর্জনার দুর্গন্ধে থাকা যায় না। আরিচপুর এলাকার ব্যাংক কর্মচারী সাহাব উদ্দিন বলেন, অলিগলি থেকে ময়লা অপসারণের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই লোকজন বাধ্য হয়ে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলে।

সিটি করপোরেশনের টঙ্গী অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, ‘নির্ধারিত ডাম্পিংয়ের জায়গা না থাকায় ও বিভিন্ন এলাকায় এখনো ডাস্টবিন না হওয়ার কারণে বর্জ্য নিয়ে সমস্যা হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা