kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বান্দুরা ব্রিজে টোলের নামে চাঁদাবাজি চলছেই!

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকার থেকে ইজারা না দেওয়া হলেও ঢাকার নবাবগঞ্জের বান্দুরা ব্রিজে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি চলছেই। প্রশাসন বারবার ব্রিজের ওপর থেকে টোল আদায় বন্ধ করলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই সরকারি দলের নাম ব্যবহার করে ফের চাঁদা আদায় শুরু করে বেপরোয়া একটি চক্র।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের পুরনো বান্দুরা বাজারের পূর্ব পাশের পুরনো বান্দুরা লঞ্চঘাটসংলগ্ন ২১ শতাংশ খাসজমি ইজারা নিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন কবির। নিয়মানুযায়ী তিনি কেবল নির্দিষ্ট জায়গার টোল তুলতে পারবেন। কিন্তু নিয়ম-নীতি না মেনে পাশের বান্দুরা ব্রিজের ওপর থেকে নিয়মিত টোল আদায় করা হচ্ছে তাঁর নামে। সরেজমিনে রবিবার দেখা যায়, তিনজন যুবক হাতে কলম নিয়ে টাকা আদায় করছেন। ব্রিজের ওপর ইজিবাইকগুলো থামিয়ে টাকা ওঠানোর ফলে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। তবে সেদিকে খেয়াল নেই টাকা আদায়কারী যুবকদের। কেউ টাকা দিতে দেরি করলে বা রাজি না হলে তর্কতর্কি, ধমকা-ধমকি শেষে লাঞ্ছিত পর্যন্ত করা হয় বলে অভিযোগ ইজিবাইক চালকদের। প্রকাশ্যে এভাবে চাঁদাবাজি চললেও প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না কেউ।

কয়েকজন ইজিবাইকচালক জানান, পুলিশ এলেই ব্রিজের ওপর থেকে টাকা আদায় বন্ধ করে সরে যায় চাঁদাবাজরা।

কথা হয় টাকা আদায়কারী এক যুবকের সঙ্গে। তবে নিজের ও সঙ্গীদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, প্রতিদিন ব্রিজের ওপর থেকে তিন-চার হাজার টাকা ওঠে। সে হিসাবে মাসে লক্ষাধিক টাকা ওঠে। তবে ওই যুবক মামুন ও সাগর নামে দুই বড় ভাইয়ের কথা বলেন যাঁরা তাঁদের টাকা ওঠানোর দায়িত্ব দিয়েছেন। ব্রিজে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনজনে টাকা তোলেন। বিনিময়ে এ কাজের জন্য প্রতিদিন তাঁদের ৩০০ টাকা করে বেতন দেওয়া হয়। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাগরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ব্রিজের ওপর থেকে টাকা ওঠাতে আমরা কাউকে বলিনি। যদি কেউ ওঠায় তাহলে নিষেধ করে দিব। হুমায়ুন ভাই ইজারা পেয়েছেন, আমার স্ট্যান্ডে সেই টাকা ওঠায়। ব্রিজের টাকা তোলার কোনো নিয়মই নেই।’

আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি একটা অনুষ্ঠানে আছি, পরে ফোন দিতে হবে।’

ইউএনও এইচ এম সালাউদ্দিন মনজু বলেন, ‘আমরা বান্দুরা ব্রিজে কাউকে টোল আদায়ের অনুমতি দিইনি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা