kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সিলেটে রবীন্দ্রনাথ শতবর্ষ স্মরণোৎসবের সমাপ্তি

সিলেট অফিস   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিলেটে রবীন্দ্রনাথ শতবর্ষ স্মরণোৎসবের সমাপ্তি

সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে দলীয় সঙ্গীত। ছবি : কালের কণ্ঠ

সিলেটের শত বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানোর মধ্য দিয়ে সিলেট নগরে শেষ হলো ‘সিলেটে রবীন্দ্রনাথ : শতবর্ষ স্মরণোৎসবের বছরব্যাপী আয়োজন’। গতকাল সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘সিলেট জেলার সব শ্রেণির লোক দল-মত-নির্বিশেষে আজ কবিগুরুর শতবার্ষিকী পালন করছে। এটি আমাকে অভিভূত করে, সিলেটবাসীর এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দেখে আমি গর্ববোধ করি।’

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সিলেট আগমনের শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত বছরব্যাপী উৎসবের গতকাল শুক্রবার ছিল সমাপনী দিন। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্মরণোৎসবের আহ্বায়ক এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইনাম আহমদ চৌধুরী, গোহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সাবেক ডিন ড. ঊষা রঞ্জন ভট্টাচার্য, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আব্দুল মোমেন রবীন্দ্রনাথের সিলেট আগমনের কথা উল্লেখ করে আরো বলেন, “কবিগুরু যখন সিলেট আসেন তখন কিনব্রিজ নির্মাণ হয়নি। তাই তাঁকে বজরায় করে সুরমা নদী পার হতে হয়। তখন তাঁকে সংবর্ধনা জানাতে সুরমাপারে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের তৎকালীন পৌরসভার চেয়ারম্যান রায় বাহাদুর সুখময় চৌধুরী ও মৌলভী আব্দুল করিম। তিনি যখন এসে পৌঁছান তখন সিলেটবাসী তাঁকে সাদরে গ্রহণ করে। তারা তখন তাঁকে সম্ভাষন জানায় ‘জয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বন্দে মাতারাম, আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে।” তিনি সিলেটের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘এখানে যেটি লক্ষণীয়, শত বছর আগেও সিলেটের মানুষের হৃদয় এতটাই বড় ছিল যে তখন তারা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-মুসলিম সব ধর্মের সম্মিলনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সংবর্ধনা দিয়েছে। আজকে শতবর্ষ পরে এই সিলেট জেলার সব শ্রেণির লোক দল-মত-নির্বিশেষে কবিগুরুর শতবার্ষিকী পালন করছে। এটি আমাকে অভিভূত করে, সিলেটবাসীর এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট দেখে আমি গর্ববোধ করি।’

সমাবেশে বক্তারা বলেন, “সেই সতের শ খ্রিস্টাব্দে যখন ইউরোপে রেনেসাঁর সৃষ্টি হয়নি, যখন ১৪৯২ খ্রিস্টাব্দে যুক্তরাষ্ট্র আবিষ্কৃত হয়নি, তখন এই বঙ্গভূমিতে ১৪০৮ খ্রিস্টাব্দে চণ্ডিদাস গেয়ে উঠেছিলেন—‘সবার উপরে মানুষ সত্য সবার উপরে নাই’। এই যে মানবতাবোধ, যেটা আমরা পরবর্তী সময়ে মরমী শিল্পী হাছন রাজা কিংবা বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম প্রত্যেকের গানে পেয়েছি। সেই যে একটি ধারা আমরা তারই উত্তরসূরি।”

সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে আবৃত্তি, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা