kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

জাবি ছাত্রলীগ সম্পাদক চঞ্চলের পদত্যাগ!

উপাচার্যের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাবি ছাত্রলীগ সম্পাদক চঞ্চলের পদত্যাগ!

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চল পদত্যাগ করেছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একাধিক সূত্র বৃহস্পতিবার রাতে কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চঞ্চল কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর সেলে গত বুধবার পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে ঠিক কী কারণে হঠাৎ এভাবে পদত্যাগপত্র দিলেন তা বুঝতে পারছি না।’ তবে আবু সুফিয়ান চঞ্চলের কাছ থেকে কোনো পদত্যাগপত্র পাননি বলে বৃহস্পতিবার রাতে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য ও দপ্তর সম্পাদক আহসান হাবিব।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত আবু সুফিয়ান চঞ্চলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বৃহস্পতিবার রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চঞ্চল কেন্দ্রীয় দপ্তরে একটি চিঠি দিয়েছে বলে শুনেছি, তবে সেটি পদত্যাগপত্র কি না সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না। চঞ্চলের সাথে আমারও কোনো কথা হয়নি। তবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি জাহাঙ্গীরনগর বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত দিলে আমরা সেটি পালন করব।’

খবর নিয়ে জানা গেছে, প্রায় আড়াই মাসেরও বেশি সময় ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন আবু সুফিয়ান চঞ্চল। সাম্প্রতিক সময়ে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপাচার্যের বাসভবন অবরোধ ও পরবর্তী সময়ে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলায় ঘটনা ঘটার দিনেও তিনি ক্যাম্পাসে ছিলেন না। চলতি বছরের আগস্ট মাসে সম্পাদক চঞ্চলসহ শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে উপাচার্যের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। যদিও সেই অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। তবে তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছু বিতর্কিত কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মতে, সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকেই ক্যাম্পাস ছেড়ে নিজ জেলা দিনাজপুর চলে যান তিনি। এর পর থেকে তিনি আর শাখা ছাত্রলীগের সঙ্গে সেভাবে যোগাযোগ রাখেননি।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর মো. জুয়েল রানাকে সভাপতি এবং এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চলকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। প্রায় দুই বছর ধরে ওই কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। চঞ্চল সম্পাদক হিসেবে থাকা অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিতর্কের সৃষ্টি হয় শাখা ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে। বর্তমানে জাবি শাখা ছাত্রলীগ তিনটি গ্রুপে বিভক্ত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা