kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

ধানমণ্ডিতে জোড়া খুন

সুরভির দায় স্বীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুরভির দায় স্বীকার

ধানমণ্ডিতে জোড়া খুনের ঘটনায় গৃহপরিচারিকা সুরভি আক্তার নাহিদা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। গতকাল ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে গৃহকর্ত্রী আফরোজা বেগম ও অন্য গৃহপরিচারিকা দিতিকে হত্যার কথা স্বীকার করেন সুরভি।

গত ৫ নভেম্বর এ মামলায় গ্রেপ্তার আরো চার আসামির সঙ্গে সুরভিকেও পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। কিন্তু রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন। এ কারণে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক রবিউল আলম গতকাল সুরভিকে আদালতে হাজির করে তাঁর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আবেদন জানান। মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনছারীর খাস কামরায় সুরভি জবানবন্দি দেন।

সূত্র জানায়, সুরভি যে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, সেই স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নয় এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত নন বলে তিনি দাবি করেছেন।

সুরভি আদালতকে জানান, তিনি তাঁর বড় বোনের সঙ্গে আগারগাঁওয়ে শেরেবাংলানগর থানার পাশের একটি বস্তিতে থাকতেন। শ্যামলীর একটি গার্মেন্টের কর্মী সুরভি গত ১৫ অক্টোবর চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর গৃহকর্মীর কাজ নিতে ধানমণ্ডির ওই বাসায় যান। সেখানে নিরাপত্তাকর্মী নুরুজ্জামানের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে নুরুজ্জামানের মাধ্যমে সুরভির সঙ্গে পরিচয় হয় বাচ্চুর (আফরোজা বেগমের মেয়ের জামাইয়ের গাড়িচালক)। বাচ্চুর মাধ্যমে আফরোজা বেগমের বাসায় গত শুক্রবার (১ নভেম্বর) কাজে যোগ দেন তিনি।

সুরভি জানান, ওই দিন প্রথম দিনের কাজ শেষে বাসা থেকে বের হতে চান তিনি। কিন্তু তাঁকে বের হতে বাধা দেন দিতি। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হয়। তখন সুরভি রান্নাঘর থেকে ছুরি এনে দিতির গলা, পিঠ আর বুকে আঘাত করেন। এরপর সুরভি আরেক ঘরে গিয়ে আফরোজা বেগমকে জানান বাসা থেকে তাঁর বের হতে চাওয়ার কথা। জবাবে তিনি বলেন, ‘তোকে তো বাচ্চু যেতে না করেছে। তুই এখন যেতে পারবি না।’ আফরোজা বেগম তখন জানতে চান, ‘অন্য ঘরে দিতি চিৎকার করল কেন।’ এ কথার জবাবে সুরভি একই কায়দায় আফরোজাকেও আঘাত করেন।

সুরভি আরো জানান, পরে তিনি সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়ে যান। তিনি যখন বাসা থেকে বের হন তখনো আফরোজা বেগম বেঁচেছিলেন। আফরোজা বেগম মারা গেছেন এটা পরে জানতে পারেন তিনি।

এই বাসায় হয়তো তাঁকে অন্য কাজে ব্যবহার করা হবে!

সুরভি আদালতকে আরো জানান, তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল। তালা মেরে আটকে রাখায় তিনি মনে করেছিলেন, এই বাসায় হয়তো তাঁকে অন্য কাজে ব্যবহার করা হবে। এ কারণে তিনি ভয় পেয়ে যান। আর বের হতে পারেন কি না—এ শঙ্কায় দুজনকে খুন করে তিনি পালান।

এ মামলায় গ্রেপ্তার নিরাপত্তা রক্ষী নুরুজ্জামান, পরিচ্ছন্নতাকর্মী গাওসুল আযম, নিহত আফরোজার জামাতার গাড়িচালক আতিকুল হক বাচ্চু ও ভবনের অন্য কর্মী বেলায়েত হোসেন রিমান্ডে আছেন।

ঘটনার পরপরই চারজনকে আটক করে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ। গত ৩ নভেম্বর মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিনই সন্ধ্যায় ডিবির একটি টিম আগারগাঁওয়ের বিএনপি বস্তি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে সুরভিকে গ্রেপ্তার করে।

গত ১ নভেম্বর ধানমণ্ডির ২৮ নম্বর রোডে অবস্থিত ২১ নম্বর বাসার ই-৫ ফ্ল্যাটে গৃহকর্ত্রী আফরোজা বেগম ও গৃহপরিচারিকা দিতি খুন হন। এ ঘটনায় ৩ নভেম্বর আফরোজার মেয়ে অ্যাডভোকেট দিলরূবা সুলতানা রূবা ধানমণ্ডি থানায় হত্যা মামলা করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা