kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফেরি বিলম্বে তিতাসের মৃত্যু

চারজনকে দায়ী করা প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চারজনকে দায়ী করা প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপন

মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ীতে ফেরি আটকে রাখার কারণে স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যুর ঘটনায় কাঁঠালবাড়ী এক নম্বর ফেরিঘাটের চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়ী করে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রতিবেদন গতকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালত আগামী ১৪ নভেম্বর এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করে এ আদেশ দেন। গতকাল আদালতে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। এ সময় ঘাটের দুই কর্মচারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও এ এম আমিনউদ্দিন।

নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও তদন্ত কমিটির সভাপতি সঞ্জয় কুমার বণিকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনে সরকারের এটুআই প্রকল্পের যুগ্ম সচিব আব্দুস সবুর মণ্ডলকে ঘটনার জন্য পরোক্ষভাবে দায়ী করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁকে (আব্দুস সবুর মণ্ডল) সরাসরি দায়ী করা যায় না। তবে তিনি ঘাট ব্যবস্থাপককে দীর্ঘক্ষণ আগে থেকেই পারাপারের জন্য বার্তা দিয়ে তাঁর সঙ্গে বারবার ফোনালাপের মাধ্যমে একটা দায়ভার সৃষ্টি করেছিলেন। সর্বোপরি নির্ধারিত সময়ের অনেক বিলম্বে ফেরি ঘাটে উপস্থিত হওয়া এবং তাঁর জন্যই ফেরি অপেক্ষমাণ রাখায় এ ক্ষেত্রে তাঁরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাই তিনি এ ক্ষেত্রে দায়ভার এড়াতে পারেন না।

এই প্রতিবেদনে যে চারজনকে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে তাঁরা হলেন—ঘাট ম্যানেজার মো. সালাম হোসেন, প্রান্তিক সহকারী মো. খোকন মিয়া, উচ্চমান সহকারী ও গ্রুপ প্রধান ফিরোজ আলম এবং ইনল্যান্ড মাস্টার সামছুল আলম। এঁদের মধ্যে প্রথম তিনজনকে দায়ী করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গত ৫ সেপ্টেম্বর পৃথক একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. রেজাউল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটির ওই প্রতিবেদন ২৩ অক্টোবর হাইকোর্টের উপস্থাপন করা হয়।

গত ২৫ জুলাই রাতে সরকারের এটুআই প্রকল্পের যুগ্ম সচিব আব্দুস সবুর মণ্ডলের গাড়ির অপেক্ষায় মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী এক নম্বর ফেরিঘাটে প্রায় ২ ঘণ্টা ‘কুমিল্লা ফেরি’ বসিয়ে রাখা হয়। ফেরিঘাটে আটকে পড়া স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষকে বহণকারী অ্যাম্বুল্যান্স পার করার জন্য বারবার অনুরোধ জানিয়েও সাড়া মেলেনি। ফলে অ্যাম্বুল্যান্সেই মৃত্যু হয় তিতাসের। এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে তিতাসের পরিবারকে তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জহির উদ্দিন লিমনের করা এক রিট আবেদনে গত ৩১ জুলাই এক আদেশে ঘটনা তদন্ত করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা