kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাগ ক্ষোভ অভিমানে বিএনপি ছাড়লেন মোরশেদ খান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাগ ক্ষোভ অভিমানে বিএনপি ছাড়লেন মোরশেদ খান

দল থেকে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান। গতকাল মঙ্গলবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরাবর লেখা পদত্যাগপত্রটি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লোক মারফত পাঠিয়েছেন তিনি। জানা গেছে, দীর্ঘদিনের রাগ, ক্ষোভ ও অভিমানই সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের কারণ। তবে পদত্যাগপত্রে এটিকে ‘নেহায়েত ব্যক্তিগত’ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর মতে, মোরশেদ খানের পদত্যাগ শুধু ব্যক্তিগত কারণে নয়, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে অবজ্ঞার শিকার হওয়াটা বড় ভূমিকা রেখেছে তাঁর পদত্যাগে। এর মধ্যে আছে জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন না দেওয়া এবং চট্টগ্রাম ও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তাঁকে কোণঠাসা করে রাখা।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে তাঁর পদত্যাগের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সাংবাদিকদের তিনি জানান, ব্যক্তিগত কারণেই পদত্যাগ করেছেন। তিনি আরো জানান, অনেক বিচার-বিশ্লেষণ করে তাঁর উপলব্ধি হয়েছে, সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। তবে গত ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসন থেকে মনোনয়ন চেয়েও পাননি। সেই ঘটনা তাঁকে যথেষ্ট মর্মাহত করেছে বলে জানা গেছে। ওই সময়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে তাঁকে মনোনয়ন দিলে ওই আসনের বিএনপি নেতাকর্মীদের অনেকে পদত্যাগের হুমকি দেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ মুহূর্তে ওই আসনের হেভিওয়েট প্রার্থী মোরশেদ খানের স্থলে চট্টগ্রাম বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ানকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি।

মোর্শেদ খানের ঘনিষ্ঠজনদের মতে, লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে তাঁর মতো বর্ষীয়ান ও অভিজ্ঞ নেতার গুরুত্ব প্রায় শূন্য হয়ে এসেছিল। এই উপলব্ধি তাঁকে অন্তর্দহনে পুড়িয়েছে অনেক। এ ছাড়া তাঁর অনুসারীদেরও কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে চট্টগ্রামে। নির্বাচনী এলাকায় তাঁর অনুসারীদের পদ-পদবি নেই, থাকলেও যোগ্যতার তুলনায় তা নগণ্য। অন্যদিকে দলের অনেকেই মনে করেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রতি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের যে আস্থাহীনতার আবহ তৈরি হয়েছে, এই পদত্যাগ তা প্রকাশ্যে নিয়ে এলো। এত দিন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকের নানা ক্ষোভের কথা শোনা গেলেও এই প্রথম তাঁদের মধ্যে কেউ পদত্যাগের মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন।

তবে ‘নেহায়েত ব্যক্তিগত’ কারণ ছাড়াও পদত্যাগপত্রে মোরশেদ খান লিখেছেন, ‘মানুষের জীবনের কোনো না কোনো সময় কঠিন একটা সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী। আমার বিবেচনায় সে ক্ষণটি বর্তমানে উপস্থিত এবং উপযুক্তও বটে। তাই অনেকটা দুঃখ ও বেদনাক্লান্ত হৃদয়ে পদত্যাগের এ চিঠি।’ তিনি বলেন, “বহুবিধ বিচার-বিশ্লেষণ শেষে আমি অবিলম্বে আজ (গতকাল) থেকে বিএনপির রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ অবস্থায় এবং স্বাভাবিক নিয়মে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ প্রত্যাহারসহ বর্তমানে ‘অলংকৃত’ ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করছি।”

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা