kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সাজাপ্রাপ্ত শিক্ষকের সঙ্গে তদন্ত প্রধানের ফোনালাপ ফাঁস

পুনঃ তদন্তের দাবি বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাজাপ্রাপ্ত শিক্ষকের সঙ্গে তদন্ত প্রধানের ফোনালাপ ফাঁস

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) দুই ছাত্রীর ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত শিক্ষকের সঙ্গে তদন্ত কমিটির প্রধানের ফোনালাপ শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে পৌঁছে গেছে। ওই ফোনালাপ নিজেই ফাঁস করেছেন—এমনটা স্বীকার করেছেন সাজাপ্রাপ্ত শিক্ষক। এদিকে ওই বিতর্কিত কথোপকথনের জের ধরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে উপাচার্য জানিয়েছেন, নতুন করে তদন্ত হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বশেমুরবিপ্রবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের সাবেক প্রধান মো. আক্কাস আলী গত ডিসেম্বরে বিভাগের চতুর্থ বর্ষের দুই ছাত্রীকে থিসিসের প্রয়োজনের নামে প্রায়ই বাড়িতে ডেকে নিতেন এবং অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি যৌন হয়রানি করতেন—এমন অভিযোগের তদন্ত শেষে বিভাগীয় প্রধানের পদ থেকে তাঁকে আজীবনের জন্য অব্যাহতি দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট আট সেমিস্টারের জন্য সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ থেকে তাঁকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. আব্দুর রহিম খানকে সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক ড. মো. বশির উদ্দিনকে সদস্যসচিব করে গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ওই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রদানের পর কমিটি প্রধান ড. আব্দুর রহিমকে ফোন করেন আক্কাস আলী। ফোনে ড. আব্দুর রহিমকে বলতে শোনা যায়, ‘ঘটনাটা তোমাকে ফাঁসানোর জন্য করা হয়েছে। আপাতত চুপ থাকো। পরে সব কিছু মেকআপ হয়ে যাবে।’ আক্কাস আলীকে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা তোমার পক্ষে রিপোর্ট দিয়েছি। আমরা কিন্তু খারাপ রিপোর্ট দিইনি।’ এ সময় আক্কাস আলী বলেন, ‘কলঙ্কিত হয়ে গেলাম, আমি মুখ দেখাতে পারি না। অন্য কারো শাস্তি হোক আর না হোক, যদি আমি করিনি এটা প্রমাণিত হয়, আমি কলঙ্কমুক্ত হতে পারব।’ এই ফোনালাপ এরই মধ্যে প্রায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মোবাইলে স্থান পেয়েছে।

এ ব্যাপারে ড. আব্দুর রহিম গতকাল মঙ্গলবার বলেন, ‘ওই সময় আক্কাস আলী আমাকে প্রায়ই ফোন করতেন। সহকর্মী হওয়ায় আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলি। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কথা বলতেন। এ সময় তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়া ছাড়া কিছুই করার ছিল না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আক্কাস আলী নিজেই অডিওটি ভাইরাল করেছেন। তবে কী জন্য তিনি অডিওটি ভাইরাল করেছেন, তা আমি বলতে পারব না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা