kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

খুনি রাশেদ চৌধুরীর বিচারের কাগজপত্র চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

সাগরে নজরদারিতে পেট্রোল বোট দেবে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খুনি রাশেদ চৌধুরীর বিচারের কাগজপত্র চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

বঙ্গবন্ধুর ঘাতক রাশেদ চৌধুরীর বিচার সংক্রান্ত ‘কাগজপত্র’ চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সফররত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যালিস জে. ওয়েলস গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বঙ্গবন্ধুর ঘাতক রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি তিনি মার্কিন ভারপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির কাছে তুলেছিলেন। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে রাশেদ চৌধুরীর বিচার সংক্রান্ত কাগজপত্র দিতে বলেছে। অ্যালিস ওয়েলস পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, ‘কাগজপত্র দিলে আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবো এবং এরপর আপনাদের জানাবো।’ মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই প্রথম বারের মতো রাশেদ চৌধুরীর বিচার সংক্রান্ত কাগজপত্র চেয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুটি জোর দিয়ে তুলে ধরেছেন। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে সহযোগিতা চেয়েছেন। অ্যালিস ওয়েলস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই ইস্যুতে পুরোপুরি সম্পৃক্ত আছে। তিনি রোহিঙ্গা শিশুদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ না থাকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন।

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর পরিকল্পনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছেন, রোহিঙ্গারা যদি ভূমিধসে মরে যায় সেজন্য বাংলাদেশ কিছুটা চাপ ও ঝুঁকি কমাতে চাইছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তবে আমরা জোর করে কাউকে নেবো না। গেলে তারা আরো ভালো থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র এতে আপত্তি করেনি। তবে খরচ কেমন হয়, বাড়ে কি না তা দেখতে চায়।’

যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি তাদের ইন্দো-প্যাসিফিক পরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম ডেডিকেডেট হাইওয়ে’ অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ করতে বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল বলেছে, ইন্দো প্যাসিফিক পরিকল্পনার আওতায় বেসরকারি খাতের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল চীন থেকে বাংলাদেশের বিনিয়োগ গ্রহণ এবং বাংলাদেশের উদ্বেগ আছে কি না জানতে চেয়েছিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের বলেছেন, বাংলাদেশ অবশ্যই চীন থেকে বিনিয়োগ নেয় এবং এ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ নেই। তবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ গ্রহণে বৈচিত্র্য আনতে চায়।

ভারপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যালিস ওয়েলস ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে প্রশ্ন তুললে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা এ আইনের লক্ষ্য নয়। সুশৃঙ্খল জীবনের জন্য আইন-কানুন প্রয়োজন।

ভোলায় ফেসবুক ব্যবহার করে বিদ্বেষ ছড়ানোর উদাহরণ দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার ঠেকাতেই ওই আইন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও এমন আইন আছে।

সরকার বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে সংগঠিত হতে দেয় না—যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযোগ নাকচ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ১০০ জন লোক সংগঠিত হতে হলে বীমা করতে হয়, নিরাপত্তা কর্মী ভাড়া করতে হয় ও অনুমতি নিতে হয়। এখানেও অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু এ দেশে এ জন্য বীমা লাগে না। মানবপাচার ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের বলেন, সরকার এ নিয়ে কাজ করছে এবং পাচার অনেক কমেছে।

শ্রম আইন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগের জবাব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের তিনগুণ সাড়ে তিনগুণ বেতন বেড়েছে। কর্মকর্তাদের শতভাগ বেড়েছে। আপনারা কি আশা করেন? আপনাদের যুক্তরাষ্ট্রে ১০০% বাড়ে? ৬% বাড়ে তিন বছরে। আর আমার দেশে এক বছরে ১০০% বেড়েছে।’ শ্রমিকদের সংগঠন করতে দেওয়া হয় না—এই অভিযোগের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি মিথ্যা কথা। বরং যুক্তরাষ্ট্রই শ্রমিক সংগঠন আটকে দেয়।

অ্যালিস ওয়েলস পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা নজরদারি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে পেট্রোল বোট দেবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অ্যালিস ওয়েলসের সঙ্গে তাঁর এ বিষয়ে আলোচনা হয়নি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিচার বহির্ভূত ও প্রতিরক্ষা ক্রয়ের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র তাঁর কাছে তোলেনি। তিনিও তুলেননি।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁনের সঙ্গে অ্যালিস ওয়েলস বৈঠক করেন। জানা গেছে, ওই বৈঠকে অ্যালিস ওয়েলস বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ও মানবাধিকার পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানান। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশে বিচার বহির্ভূত হত্যা হচ্ছে না। অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আত্মরক্ষার্থে ব্যবস্থা নেয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা