kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কারাগারগুলোতে চিকিৎসা যেন সোনার হরিণ

১৪১ চিকিৎসকের বিপরীতে আছেন মাত্র ১০ জন

২৩ জুন হাইকোর্ট এক আদেশে কারাগারে ধারণক্ষমতা, বন্দি ও বন্দিদের জন্য কতজন চিকিৎসক রয়েছেন তার তালিকা দিতে নির্দেশ দেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সারা দেশের কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি বন্দি রয়েছে। গত ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ৪০ হাজার ৬৬৪ জনের ধারণসংখ্যার বিপরীতে বন্দি রয়েছে ৮৬ হাজার ৯৯৮ জন। এই বন্দিদের চিকিৎসার জন্য ১৪১ জন চিকিৎসকের বিপরীতে মাত্র ১০ জন কর্মরত রয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষ এক লিখিত প্রতিবেদনে গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টকে এ তথ্য জানিয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি ২০ জন চিকিৎসককে কারাগারে পদায়ন করা হয়। এর মধ্যে মাত্র চারজন যোগদান করেন। বাকি ১৬ জন এখনো যোগদান করেননি। এই ১৬ জন কেন যোগদান করেননি তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ১১ নভেম্বরের মধ্যে এসব বিষয় জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জে আর খান রবিনের করা এক রিট আবেদনে এ আদেশ দেওয়া হয়। রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও অ্যাডভোকেট শাম্মী আকতার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

এর আগে গত ২৩ জুন হাইকোর্ট এ আদেশে কারাগারে ধারণক্ষমতা, বন্দি ও বন্দিদের জন্য কতজন চিকিৎসক রয়েছেন তার তালিকা দিতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে চিকিৎসকের শূন্য পদের সংখ্যাও জানাতে বলা হয়। কারা মহাপরিদর্শককে ছয় সপ্তাহের মধ্যে এই তালিকা দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি রুল জারি করেন। রুলে কারাগারে বন্দিদের মানসম্মত থাকার স্থান নিশ্চিত করা এবং বন্দিদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আইন, স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণ ও জনপ্রশাসন সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও কারা মহাপরিদর্শককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এ অবস্থায় কারা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে গতকাল হাইকোর্টে একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলামের মাধ্যমে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

এ বিষয়ে জে আর খান রবিন সাংবাদিকদের বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদন দিয়ে বলেছে যে কারাগারে সরাসরি বা চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক নিয়োগের কোনো সুযোগ নেই। শুধু প্রেষণে বদলির মাধ্যমে কারাগারে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা