kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘সুবিধা’ হাতিয়ে নিতে সংঘবদ্ধ নীরবতা

পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ, তারল্য সংকটের দোহাই

রফিকুল ইসলাম   

৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশের পুঁজিবাজারের মন্দা অবস্থায় মূলধন হারিয়ে দিশাহারা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। মার্জিন ঋণ সুবিধায় শেয়ার কেনা ও ঋণদাতা উভয় পক্ষই সংকটে। লোকসানে পড়ে আটকে গেছে বিনিয়োগকারীরা। আবার লোকসান মেনেই কেউ কেউ বাজার ছেড়ে নিরাপদে অবস্থান নিচ্ছে। তবে পুঁজিবাজারের এই সংকটময় মুহূর্তে সংঘবদ্ধভাবে নিষ্ক্রিয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। অথচ বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে তাদেরই বড় ভূমিকা থাকার কথা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের লোকসানের মুখে ঠেলে দিয়ে বাড়তি সুবিধার আশায় পুঁজিবাজারে নিষ্ক্রিয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। উদ্দেশ্য, শেয়ারের দাম পড়ে গেলে তা কম দামে কেনা এবং বাজার নিম্নমুখী রেখে ফান্ডের জোগানসহ আইনগত ছাড়ের সুবিধা আদায়ে চেষ্টা চালানো। তারল্য সংকটের উল্লেখ করে এরই মধ্যে স্বল্প সুদে সরকারের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা মূলধনের জোগান চেয়েছে পুঁজিবাজারের স্টেকহোল্ডাররা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্রোকারেজ হাউসগুলো নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে নানা দাবি আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও স্টক এক্সচেঞ্জের মধ্যে সম্প্রতি কিছু বিষয় নিয়ে মতানৈক্য দেখা দিলে কমিশনকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে কিছু সদস্য যোগসাজশ করে বাজারে নিষ্ক্রিয় রয়েছে। অথচ তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আইন-কানুনেও সংস্কার এনেছে কমিশন।

পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিকে সংকট আখ্যা দিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগও (সিপিডি) প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, পুঁজিবাজারের অস্থিতিশীল সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নীরব ভূমিকায় রয়েছে, যদিও বাজার স্থিতিশীল রাখতে তাদের বড় ভূমিকা পালন করার কথা।

সূত্র জানায়, পুঁজিবাজারের বিদ্যমান শেয়ারের বেশির ভাগ রয়েছে গুটিকয়েক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর হাতে। তারাই বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। তাদেরই হাতে রয়েছে মূলধনের বড় অংশ। আর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা সংখ্যায় বেশি হলেও তাদের হাতে মূলধন একেবারেই কম।

সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, এক হাজার ১০০ যোগ্য বিনিয়োগকারী ৪০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানায় রয়েছে। ৩৭ মিউচ্যুয়াল ফান্ড ১০ শতাংশ আর ২২ হাজার নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি (এনআরবি) ১০ শতাংশ শেয়ারের মালিক। স্টক ও ব্রোকার ডিলার, মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিকল্প ফান্ড ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড বড় বিনিয়োগকারী হিসেবে পরিচিত।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা সূত্র বলছে, বড় বিনিয়োগকারীরা নিষ্ক্রিয় হওয়ায় পুঁজিবাজার দাঁড়াতেই পারছে না। স্টেকহোল্ডারদের চাহিদা অনুযায়ী বাজার উন্নয়নে আইনগত সহায়তার পাশাপাশি নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও তারা অজানা কারণে নিষ্ক্রিয়। তাদের সংঘবদ্ধ নিষ্ক্রিয়তায় বাজার তলানিতে। আর তারা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছে।

বিএসইসির এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে স্টক এক্সচেঞ্জের কতিপয় সদস্য মরিয়া। তারা বাজার অস্থিতিশীল রেখে কমিশনকে বিতর্কিত করে ফায়দা লুটতে চায়। নিজেরা নানা সুবিধা নিয়েও তারা অযথা শেয়ার বিক্রি করছে, যদিও বাজারে বিনিয়োগের সঠিক পরিবেশ রয়েছে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম গত রবিবার এক আলোচনায় বলেন, ‘পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর মধ্যে পার্থক্য নেই। তবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের একটি সুদৃঢ় ভূমিকা থাকা দরকার। বাজারের ৬০ শতাংশ শেয়ার তাদের হাতে। বাজারে স্থিতিশীলতায় তাদের ভূমিকা থাকার কথা হলেও তারা উল্টো অস্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখছে।’

অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বলছে, তারল্য সংকট থাকায় তারা পুঁজিবাজারে সক্রিয় হতে পারছে না। আবার শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় লোকসানে মূলধন আটকে গেছে। মার্জিন ঋণ দেওয়া প্রতিষ্ঠানের অবস্থা নাজুক। মূলধন ফিরে পেতে ফোর্স সেল করতে হচ্ছে। বিনিয়োগের যথাযথ সময় সত্ত্বেও ফান্ড না থাকায় তাদের পক্ষে বিনিয়োগ সম্ভব হচ্ছে না।

মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ছায়েদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মন্দা অবস্থার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ফান্ড আটকে গেছে। এ জন্য বাজারে সক্রিয় হতে পারছে না অনেকে। স্বল্প সুদে সরকার ঋণ দিলে সক্ষমতা বাড়বে। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হতে পারলে বাজারে ইতিবাচক ধারা ফিরে আসবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা