kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সিলেটে রবীন্দ্র স্মরণোৎসব

সিলেট অফিস   

৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিলেটে রবীন্দ্র স্মরণোৎসব

রবীন্দ্রনাথের সিলেট আগমনের শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণোৎসবে গতকাল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খুদে শিল্পীদের পরিবেশনা। ছবি : কালের কণ্ঠ

সূর্যের তেজ ততক্ষণে কমতে শুরু করেছে। সে আলোয় কুষ্টিয়ার ‘কুঠিবাড়ির’ আদলে তৈরি মঞ্চের ঠিক পেছনে সুরমা নদীর পাসির রং দেখে মনে হচ্ছিল তরল সোনা। এ নদী হয়েই শতবর্ষ আগে সিলেটে পা রাখেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। চাঁদনীঘাটের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠলে ঠিক যেখানে প্রথমে চোখ পড়বে সেখানেই শতবর্ষ উপলক্ষে স্থাপন করা হয়েছে কবিগুরুর ম্যুরাল। বিকেলে সাবেক অর্থমন্ত্রী ও স্মরণোৎসব পর্ষদের আহ্বায়ক আবুল মাল আবদুল মুহিত আনুষ্ঠানিকভাবে সে ম্যুরাল উন্মোচন করেন। শুরু হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সিলেট পরিভ্রমণের শতবর্ষ স্মরণোৎসব।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সিলেটে এসে আমাদের ধন্য করেছিলেন।’

স্মরণোৎসব পর্ষদের যুগ্ম সদস্যসচিব মিশফাক আহমদ মিশু ও রজত কান্তি গুপ্তের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন খ্যাতিমান নির্মাতা ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্মরণোৎসব পর্ষদের সদস্যসচিব ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, খ্যাতিমান আবৃত্তি শিল্পী হাসান আরিফ, ব্রিটেনে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার ও কবি মোফাজ্জল করিম, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, স্মরণোৎসব পর্ষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার মো. আরশ আলী প্রমুখ।

ম্যুরাল উন্মোচনের পর ‘আজি হতে শতবর্ষ আগে/ তুমি এসেছিলে এই পুণ্য ধামে’ শিরোনামে সংগীত যৌথ পরিবেশন করেন ১২০ জন শিল্পী। এরপর একে একে দলীয় সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। স্থানীয় পাঁচ শতাধিক শিল্পী এতে অংশ নেন। এ ছাড়া উপস্থিত শ্রোতাদের আবৃত্তিতে মুগ্ধ করেন খ্যাতিমান আবৃত্তি শিল্পী হাসান আরিফ। সিলেটে রবীন্দ্রনাথের আগমনের শতবর্ষজুড়ে উদ্যাপনের উদ্যোগ নেয় সিলেটে রবীন্দ্রনাথ : শতবর্ষ স্মরণোৎসব পর্ষদ। কিনব্রিজসংলগ্ন সুরমা নদীর তীরে সেই উৎসবের শেষপর্বের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে। গতকাল ভোর থেকেই রবীন্দ্রনাথ স্মরণোৎসবের সূচনা হয়। নগরের বিভিন্ন স্থানে রবীন্দ্র স্মরণে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে একাধিক সংগঠন।

সিটি করপোরেশনের শোভাযাত্রা : বিশ্বকবির সিলেট আগমনের শতবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার নগরে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন। সকাল ১১টায় নগর ভবন প্রাঙ্গণে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন ‘সিলেটে রবীন্দ্রনাথ : শতবর্ষ স্মরণোৎসব উদযাপন পর্ষদের’ আহ্বায়ক ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও সদস্যসচিব সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। শোভাযাত্রাটি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হয়।

শ্রীহট্ট ব্রাহ্মসমাজ : ১৯১৯ সালে সিলেট সফরকালে ৫ নভেম্বর শ্রীহট্ট ব্রাহ্মসমাজের আমন্ত্রণে নগরের বন্দরবাজারস্থ ব্রাহ্ম মন্দিরে গিয়ে সমবেত প্রার্থনায় অংশ নিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পরদিনও তিনি ব্রহ্ম মন্দিরে যান ‘শ্রীহট্ট মহিলা সমিতির অনুষ্ঠানে। কবিগুরুর সেই স্মৃতি স্মরণে গতকাল দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করে শ্রীহট্ট ব্রাহ্মসমাজ। সকাল ৭টায় সুরমা নদীর চাঁদনীঘাটে রবীন্দ্রনাথের আগমনের ক্ষণ স্মরণে পুষ্পবর্ষণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়। এরপর সকাল সাড়ে ৮টায় বন্দরবাজারস্থ ব্রাহ্ম মন্দিরে ‘শব্দে ছন্দে রবীন্দ  স্মরণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ব্রাহ্ম মন্দিরে রবীন্দ্রনাথের প্রার্থনা সভায় অংশগ্রহণের সময়কালের আবহে স্ত্রোত্র, গান ও নৃত্যাঞ্জলি পরিবেশিত হয়। এতে অংশ নেন বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা