kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলা

বিএনপি নেতা অপহরণের পর মিলল গুলিবিদ্ধ লাশ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক সভায় অংশ নেওয়ার ৭ দিনের মাথায় খুন

রাঙামাটি প্রতিনিধি   

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিএনপি নেতা অপহরণের পর মিলল গুলিবিদ্ধ লাশ

প্রতীকী ছবি

মঙ্গলবার বিকেলে অপহৃত হওয়ার পর বুধবার সকালেই গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ পাওয়া গেছে রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার এক হেডম্যান ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের। উপজেলা বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্বে থাকা দীপময় তালুকদারকে (৪৫) মঙ্গলবার একদল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে থানায় অভিযোগ করেছিল তাঁর পরিবার। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের জিরোমাইল এলাকায় তাঁর লাশ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন রাজস্থলী থানার ওসি মফজল আহমেদ।

ওসি বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে অপহরণের অভিযোগ করা হয় আমাদের। আমরাও বিভিন্ন এলাকায় খোঁজখবর নিচ্ছিলাম। তারই মধ্যে আজ তাঁর লাশ পাওয়া গেল।’ ‘কারা হত্যা করেছে এখনো বিষয়টি নিশ্চিত নয়’—বলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

দুই মেয়াদে ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী দীপময় রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য। তিনি গত ১৬ অক্টোবর রাঙামাটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পার্বত্য চট্টগ্রামের আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক আলোচনাসভায়ও অংশগ্রহণ করেছিলেন।

রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি হাজি মো. শাহ আলম বলেন, ‘দীপময় তালুকদার নিজের ঠিকাদারি কাজ শেষে ফেরার পথে চারজন অস্ত্রধারী তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে বলে গতকালই জেনেছিলাম আমরা। আজ তাঁর লাশ মিলল। কিন্তু কারা হত্যা করেছে এখনো জানতে পারিনি।’ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে যারা অব্যাহত খুন ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছে, তারাই এই নির্মম কাজটি করতে পারে।

হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক রাঙামাটি শহরে প্রতিবাদ মিছিল করেছেন রাঙামাটি জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দীপন তালুকদার, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ, সাংগঠনিক সম্পাদ অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির ও জেলা যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাকিল মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মিছিলটি জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সেখানে সমাবেশ করে।

এদিকে দীপময়কে হত্যার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। সংগঠনটির রাঙামাটি জেলা ইউনিটের সংগঠক সচল চাকমা গতকাল এক বিবৃতিতে জেলার রাজস্থলীতে হেডম্যান ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান দীপময়কে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এ জন্য ‘প্রশাসনের নির্লিপ্ততা ও জুম্মদের মধ্যে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত জারি রাখতে সরকারের একটি মহলের’ চেষ্টাকে দায়ী করে বলেন, ‘বান্দরবানসহ সারা পার্বত্য চট্টগ্রামে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের পরও অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি না হওয়ায় সন্ত্রাসীরা এসব অপকর্ম চালিয়ে যেতে সাহস পাচ্ছে।’ তিনি অবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল গত ১৬ অক্টোবর র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি প্রধানসহ সরকারের সব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের নিয়ে রাঙামাটিতে এসে দুই দিনে তিন পার্বত্য জেলার বিশিষ্টজনদের সঙ্গে সভা করেন। তিনি সে সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের অব্যাহত সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সরকারের শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে যান। কিন্তু তাঁর ঘোষণার মাত্র সাত দিনের মাথায়ই রাজস্থলী উপজেলায় গুলি করে হত্যা করা হলো বিএনপির এই পাহাড়ি নেতাকে। এর আগে আগস্টে এই উপজেলায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় এক সেনা সদস্যও নিহত হয়েছিলেন। ৮ অক্টোবর গুলি করে হত্যা করা হয় জনসংহতি সমিতির কর্মী অংসুই মারমাকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা