kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

সড়কে আনফিট গাড়ি অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করুন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফিটনেসবিহীন যান চলাচল এবং ওভারটেকিংয়ের মতো অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ওভারটেকিং নামক অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়কে চালানো দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে।’

গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০১৯’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ‘কেউ যদি অহেতুক নিয়মের বাইরে গিয়ে গাড়ি বা ট্রাকের আকার পরিবর্তন করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ট্রাফিক পুলিশকেও এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ড্রাইভারদেরও দোষ রয়েছে, কোনো গাড়ি তাদের ওভারটেক করলে যেন মাথা খারাপ হয়ে যায়, ওই গাড়িকে তাদেরও ওভারটেক করতেই হবে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।’ তিনি বলেন, ‘একটি রাস্তা কেমন লোড নিতে পারে, একটি সড়কে কী ধরনের দুটি গাড়ি পাশাপাশি চলতে পারে, তার একটি আকার নির্দিষ্ট করা থাকে। অথচ আমাদের দেশে দেখা যায় অধিক মুনাফার আশায় আসন বৃদ্ধির জন্য বা অতিরিক্ত মালামাল পরিবহনের জন্য ক্ষেত্রবিশেষে এক্সট্রা ক্লাম দিয়ে দুপাশে বেআইনিভাবে গাড়ির আকার বাড়িয়ে নিচ্ছে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে।’

চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাবে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে কিন্তু শুধু চালক নয়, পথচারীরাও অনেকাংশে দায়ী। কারণ ফুট ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস, ওভারপাস থাকার পরও দেখা যায় যে পথচারীরা রাস্তার মাঝখান দিয়ে পারাপার হচ্ছে, ফুটপাত ব্যবহার করছে না। একটি চলন্ত গাড়িকে শুধু হাত দেখিয়ে দৌড় দিয়ে বা মোবাইলে কথা বলতে বলতেই তারা রাস্তা পার হয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘গাড়িটা তো একটা যন্ত্র। কাজেই ব্রেক করলেও তো থামতে এর কিছুটা সময় লাগে। কাজেই এই বোধটা বা জ্ঞান তো তাদের থাকতে হবে। সেই সঙ্গে সড়ক চলাচলের যে আইন রয়েছে তাও তো মেনে চলতে হয়। এসব বিষয়ে সচেতনতাও সৃষ্টি করা হয় না।’

প্রধানমন্ত্রী দেশের স্কুলপর্যায়ে ট্রাফিক আইন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘এ জন্য স্কুল-কলেজ এবং যেসব প্রতিষ্ঠানে অধিক জনবল কাজ করে তাদের মধ্যে ট্রাফিক আইন বা ট্রাফিক রুল বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেওয়াটা একান্তভাবে প্রয়োজন।’

গাড়ির মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ড্রাইভার কতক্ষণ গাড়ি চালাচ্ছে, ড্রাইভার খেলো কি না, ড্রাইভারের পর্যাপ্ত বিশ্রাম আছে কি না—আমাদের যারা গাড়ির মালিক, যারা ড্রাইভারকে ব্যবহার করেন, এই বিষয়টা কখনো চিন্তা করেন কি না আমার সন্দেহ আছে। তাদের বিশ্রামের দরকার আছে; খাবারেরও প্রয়োজন আছে। তার কিছু সময়েরও প্রয়োজন আছে।’

ফুটপাত দখলমুক্ত করার নির্দেশ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘সেখানে জায়গা থাকে না। আর ওখানেই যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং। অনেক শপিং মল আছে, তারা বানানোর সময় দেখায় সেখানে গাড়ি পার্কিং, পরবর্তী সময়ে ওগুলো দোকান হিসেবে দিয়ে দেয়। সেখানে ট্রাফিকের টোল সিস্টেম রাখতে হবে। স্লিপ দিয়ে তাদের কাছ থেকে টোল আদায় করতে হবে। কেন রাখা হলো সাথে সথে ফাইন করতে হবে। যে যত বেশি ফাইন আদায় করতে পারবে, একটা পার্সেন্টেজ যেন তাকে দেওয়া হয় সেই ব্যবস্থাটাও আমরা করে দিচ্ছি।’

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নির্বাহী সভাপতি শাজাহান খান এমপি, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান একাব্বর হোসেন এমপি, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন এবং সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। সূত্র : বাসস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা