kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

৩০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন

শামীম-খালেদের বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা

সম্রাটকে অস্ত্র মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু আরমান ফের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শামীম-খালেদের বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা

যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় জি কে শামীম ও তাঁর মা আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে ২৯৭ কোটি আট লাখ ৯৯ হাজার টাকা এবং খালেদ মাহমুদের বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি ৫৮ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে গতকাল সোমবার অস্ত্র মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। আর তাঁর ক্যাসিনো গুরু হিসেবে পরিচিত এনামুল হক আরমানকে আবারও পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

জি কে শামীম ও তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে গত রবিবার মামলা দায়ের করেন দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন। একই দিন অনুসন্ধান কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে খালেদ মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।

এ বিষয়ে দুদক সচিব দিলোয়ার বখ্ত বলেন, ‘দুদকের তদন্ত চলমান। তদন্তে আর কারো নাম বেরিয়ে এলে অভিযোগপত্রে আসামি করা হবে।’

মামলার বিবরণে জানা যায়, শামীম ২০১৮-২০১৯ করবর্ষ পর্যন্ত ৫০ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। এর মধ্যে আয়কর নথিতে ৪০ কোটি ২১ লাখ ৪০ হাজার ৭৪৪ টাকার তথ্য উল্লেখ করলেও মোট টাকার বৈধ উৎস খুঁজে পায়নি দুদক।

এ ছাড়া শামীমের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া নগদ এক কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা ও সাত লাখ ৪৭ হাজার টাকার বিদেশি মুদ্রা, শামীম ও তাঁর মা আয়েশা আক্তারের নামে ১৬৫ কোটি ২৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকার এফডিআর, মায়ের নামে আরো ৪৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকার ব্যবসার অংশীদার এবং জিকেবি অ্যান্ড কম্পানির শেয়ার, গাড়ি ও এফডিআর বাবদ ৩৬ কোটি ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৭১৯ টাকার অস্থাবর সম্পদের বৈধ উৎস পায়নি দুদক। দুদকের অনুসন্ধানে আয়েশা আক্তারের কোনো বৈধ আয়ের উৎসও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় চার কোটি ৫০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৯০ লাখ ১৬ হাজার ৭০৯ টাকার অস্থাবর সম্পদের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া গত ১৮ সেপ্টেম্বর র‌্যাবের অভিযানে তাঁর গুলশানের বাসা থেকে ১৭ লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ টাকার বিভিন্ন দেশের মুদ্রা জব্দ করা হয়। দুদকের অনুসন্ধানে কিংবা জিজ্ঞাসাবাদে এর কোনো উৎস দেখাতে পারেননি খালেদ। এসব মিলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মোট পাঁচ কোটি ৫৮ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৯ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অস্ত্র মামলায় সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু : মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও অস্ত্র আইনের মামলায় সম্রাটকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় গত ১৫ অক্টোবর। গতকাল মাদক মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষ হয়। এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে তাঁকে অস্ত্র মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা গতকাল এই অনুমতি নেন।

আরমান ফের পাঁচ দিনের রিমান্ডে : মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আরমানকে গতকাল আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডের আবেদন জানান তদন্ত কর্মকর্তা। অন্যদিকে আরমানের পক্ষে তাঁর আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহ শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ১৫ অক্টোবর আরমানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা