kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘মা জানেন না তিনি বাদী’

এবার বাবা বলছেন তিনি মামলা করবেন

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে দুর্বৃত্তদের ছুরিঘাতে স্কুলছাত্র হত্যার পাঁচ দিন পার হলেও একজন ছাড়া আর কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে এ ঘটনায় মামলা হলেও নিহতের মা বলছেন তিনি বাদী হয়ে মামলা করেননি। এর পরই পুলিশ এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন ছাড়াও সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলন করে ওই মাকে ‘বাদী’ স্বীকার করানোর চেষ্টায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এদিকে নিহত স্কুলছাত্রের বাবা বলছেন তাঁর স্ত্রী ওই মামলার বাদী হননি। এখন তিনি নিজেই মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অন্যদিকে এসব ঘটনা নিয়ে পুলিশ যখন বেকায়দায় পড়েছে তখন একটি রাজনৈতিক দল ছাড়াও প্রভাবশালীরা পুলিশকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। নিহতের মা মামলা না করলেও পুলিশের চাপের মুখে পড়ে বাধ্য হচ্ছেন মামলার কথা স্বীকার করতে। অন্যদিকে নিহতের বাবা বলছেন, তাঁর ছেলের আসল হত্যাকারীদের অভিযুক্ত করে তিনি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী আহত ও মৃত্যুর পরে কোনো মামলা করেনি। সে মামলা করলে আমার অনুমতি নিত।’ এই সব কথা সাংবাদিকদেরও বলেছেন। এখন পুলিশের চাপে পড়ে মামলা দায়েরের কথা বলছেন। আসলে তিনি কোনো মামলা করেননি। একসময় তো আপনাকে পুলিশ নিয়ে যাবে। পরে তো পুলিশ যা বলবে তা-ই বলবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে গুলি করলেও মিছা কথা কইতাম না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার স্ত্রীর নাম নুরেজা পারভীন। জাতীয় পরিচয়পত্রে তা-ই আছে।  কিন্তু কথিত মামলায় যে নুরজাহানের কথা বলা হয়েছে, তা আমার স্ত্রীর নাম নয়। সে ঠিকমতো স্বাক্ষরও দিতে পারেনি। জাতীয় পরিচয়পত্রেও টিপসই দিয়েছিল।’

নিহত স্কুলছাত্র জায়দুল ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার দত্তপাড়া মহল্লার মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে। সে এলাকার শিমুলতলা মোড়ে প্রতিশ্রুতি মডেল হাই স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ত। নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নিতে সে গত মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে রিকশাযোগে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল। এ সময় বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ফিশারিসংলগ্ন স্থানে পথ রোধ করে তাকে রিকশা থেকে নামিয়ে কয়েকজন কিল-ঘুষি মেরে টেনেহিঁচড়ে সড়কে ফেলে দেয়। পরে তার গলায় ছুরি মেরে রক্তাক্ত করে। এ সময় আহত জায়দুল নিজেকে রক্ষা করতে দৌড়ে বিদ্যালয়ের কাছে এসে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে লোকজন উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় ঢাকায় নিয়ে ভর্তি করা হয়। এই অবস্থায় গত মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে জায়দুলের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত মশিউর রহমান কাঞ্চন (৩০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠালেও গত পাঁচ দিনে আর কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

এসব বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার জায়দুলের মা নুরেজা পারভীন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, গত মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে তাঁর ছেলে আহত হয়। এরপর তিনি তার চিকিৎসা নিয়ে ময়মনসিংহ ও ঢাকায় ছিলেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি থানায় এজাহার দেননি বা থানা থেকে কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। পরে থানার ওসি আহম্মেদ কবির শনিবার নুরেজাকে থানায় নিয়ে যান। সেখানে নিজ কক্ষে বসিয়ে সাংবাদিকদের সামনে স্বীকার করান তিনিই মামলার এজাহারে স্বাক্ষর করেছেন।

মামলা রুজু করা প্রসঙ্গে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি আহম্মেদ কবির হোসেন বলেন, বাদীর পক্ষ থেকে গত বুধবার রাতে এক ব্যক্তি (নাম বলতে পারেননি) থানায় এসে এজাহার দিয়ে যান। তিনি তখন আসামি ধরার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। পরে ওই এজাহারটি ১৬ অক্টোবর রাত ১২টা ৫ মিনিটে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ১ নম্বর আসামি মশিউর রহমান ওরফে কাঞ্চন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তবে মামলা রুজু হওয়ার পর থেকে কে বা কারা ধূম্রজাল তৈরির চেষ্টা করছে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা