kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

নারায়ণগঞ্জে পুলিশ ফাঁড়ি ও ডাকবাংলো গলার কাঁটা

শহরের প্রবেশমুখে প্রতিদিন যানজট

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শহরের প্রবেশমুখে প্রতিদিন যানজট

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন পাগলা সড়কের চাষাঢ়ায় শহরের প্রবেশমুখে এ রকম যানজট নিত্যদিনের। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রবেশমুখে রয়েছে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো এবং চাষাঢ়া ও হাজীগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি। এ দুটি স্থাপনার কারণে শহরে প্রবেশের মুখটি সরু হয়ে আছে। ফলে সড়কটির ওই অংশে যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলতে হয়। এতে দেখা দেয় যানজট, যা পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়ে। নগরবাসী মনে করে, এ দুটি স্থাপনার কিছু অংশ ভেঙে দিয়ে রাস্তাটি প্রশস্ত করলে যানজটের এ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যেত। সম্প্রতি আধুনিক ভবন নির্মাণের জন্য চাষাঢ়া ও হাজীগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি দুটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এতে করে নগরবাসী স্বপ্ন দেখছে—রাস্তাটি হয়তো এবার প্রশস্ত হবে। দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার কিছুটা লাঘব হবে।

আধুনিক ভবন নির্মাণের জন্য চাষাঢ়া ও হাজীগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি ভেঙে ফেলায় সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের আগে রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য কিছু জমি ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটি।

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ বি সিদ্দিক বলেন, চাষাঢ়ায় এ দুটি স্থাপনার কারণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের নারায়ণগঞ্জের প্রবেশমুখটি সরু হয়ে গেছে। ফলে রাস্তার এ অংশেই যানজটের সৃষ্টি হয়। অতীতে নগরে যানবাহনের চাপ কম থাকায় তখন কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এখন প্রতিনিয়ত রাস্তার এ অংশে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, রাস্তার এ অংশের পাশেই রয়েছে একটি ক্লিনিক ও বেসরকারি একটি স্কুল। এ ছাড়া চাষাঢ়া ডাকবাংলোর পাশের রাস্তা দিয়েই সরকারি তোলারাম কলেজে যাওয়ার পথ। কিন্তু যানজটের কারণে স্কুল-কলেজ ও ক্লিনিকে আসতে যেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থী ও রোগীদের।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, আধুনিক ফাঁড়ি ভবন নির্মাণের জন্য পুলিশ ফাঁড়ি দুটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এটা সরকারের প্রকল্প। নাগরিক কমিটির আবেদন পেয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে এ বিষয়ে আমার কিছু করার নেই। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এ জন্য আবেদন করতে হবে।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, জনগণের সুবিধার্থে যদি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাতে পরিষদের কোনো আপত্তি নেই। তিনিও স্বীকার করেন, সড়কটির ওই অংশ প্রশস্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান বলেন, ‘যেহেতু রাস্তাটি আমার নির্বাচনী এলাকায়, তাই এটিকে প্রশস্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব আমার ওপরও বর্তায়। এখন যেহেতু পুলিশ ফাঁড়ি দুটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আমি ডিও লেটার দেব, যাতে রাস্তাটি প্রশস্ত করতে কিছু জমি ছেড়ে দেওয়া হয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা