kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

সিসার্ফের সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল

বাস্তবতা মানতে না পারা তরুণরা জঙ্গিবাদে জড়ায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, যেসব তরুণের ভেতরে দেশপ্রেম নেই, মানুষের প্রতি দায়িত্ব বোধ নেই, যাদের ভেতরে সহ্যশক্তি নেই, মতাদর্শিক জায়গায় যে খুবই দুর্বল, জীবনের বাস্তবতা যারা মেনে নিতে পারছে না, সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না এবং শর্টকাট পথ খুঁজছে সে ধরনের পলায়নপর তরুণরাই র‌্যাডিকালাইজড (মৌলবাদী) হচ্ছে। চমকপ্রদ প্রস্তাবে মানসিকভাবে দুর্বল তরুণরাই জঙ্গিবাদে আকৃষ্ট হচ্ছে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, সন্ত্রাসবাদ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। সারাবিশ্বই এখন সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তবে বাংলাদেশে ঝুঁকির মাত্রা অত্যন্ত কম। এখন যারা (জঙ্গি) গ্রেপ্তার হচ্ছে তারা কেউ কেউ আগে থেকেই ছিল। আবার কেউ কেউ নতুন করে র‌্যাডিকালাইজড হয়ে জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে। তিনি বলেন,  জঙ্গিবাদে টেনে আনতে ইন্টারনেটে প্রতিনিয়ত প্রলুব্ধকার ও আকর্ষণীয় প্যাকেজ দেওয়া হচ্ছে। যাদের ভেতরে ‘অ্যান্টিবডি’ (সহনশীলতা অর্থে) কম, তাদের টার্গেট করে নতুন করে জঙ্গিবাদে জড়ানো হচ্ছে।

‘ঢাকা পিস টক’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ইউএসএআইডির সহযোগিতায় সেন্টার ফর সোশ্যাল অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিসার্ফ)। এর মধ্য দিয়ে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল সিসার্ফ। সমাজের নানা ধরনের মানুষের সমন্বয়ে সহিংসতা প্রতিরোধে কী করণীয়, তা নিয়ে চিন্তা করে কাজ করবে বলে জানান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সিসার্ফের প্রধান নির্বাহী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শবনম আজিম।

মনিরুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কমে যাওয়ার কারণে অনেকেই মনে করছে, এই বিপদ কেটে গেছে, কিন্তু এই বিপদ কেটে যায়নি। সম্প্রতি এর মধ্যেই পুলিশকে লক্ষ্য করে কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। 

এ সময় জঙ্গিবাদ নির্মূল হলেও ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে বলে সতর্ক বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ১৫ থেকে ৩০ বছরের বয়সসীমার মধ্যে থাকা তরুণ ও যুবকরা বেশি জঙ্গিবাদে জড়াচ্ছে। জঙ্গিবাদ নির্মূলে আগে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ হয়েছে। এ ধরনের কাজ দীর্ঘ মেয়াদে করতে হবে।

ঢাকা পিস টক প্রসঙ্গে মনিরুল ইসলাম বলেন, উগ্রবাদ দমনে শুধু পুলিশই নয়, পরিবার, সিভিল সোসাইটিসহ সবার সম্মিলিত প্রয়াস থাকতে হবে। পাশাপাশি উগ্রবাদ প্রতিরোধী উদ্যোগ হিসেবে ‘ঢাকা পিস টক’ কাজ করবে। তিনি জানান, ঢাকায় সফল হলে ‘ঢাকা পিস টক’-এর কার্যক্রম দেশের অন্য কোথাও চালুর চিন্তা করা হবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সিসার্ফের নির্বাহী পরিচালক শবনম আজিম জানান, সিসার্ফ একটি অলাভজনক থিংক ট্যাংক, যেটি সামাজিক অ্যাডভোকেসি, গবেষণা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিশ্লেষণ করবে। তিনি জানান, বিভিন্ন পেশার ৩৬ জনকে নিয়ে একটি প্যানেল তৈরি করে ১২টি আলোচনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আগামীর করণীয় নির্ধারণ করা হবে। গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, দক্ষ সাংবাদিকের সমন্বয়ে গড়ে ওটা সিসার্ফ কৌশলগত চিন্তক, একাডেমিকদের প্ল্যাটফর্ম। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কেউ যেন উগ্র জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়তে না পারে, সে লক্ষ্যটাই থাকবে আমাদের।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা