kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৭ রবিউস সানি ১৪৪১     

ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনীহা ও প্রচারণার অভাব

নতুন উদ্যোক্তা তহবিলের অর্থ অলস পড়ে আছে

জিয়াদুল ইসলাম   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ‘পুনরর্থায়ন তহবিল’ অলস পড়ে আছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনীহা, প্রচার-প্রচারণার অভাব, তুলনামূলক সুদের হার বেশি হওয়া এবং উদ্যোক্তাদের ব্যাবসায়িক লাইসেন্স পেতে দীর্ঘসূত্রতাসহ বিভিন্ন কারণে এ তহবিলের প্রায় ৮৬ শতাংশ অর্থই ব্যবহার হয়নি। সর্বশেষ গত তিন মাসে এ তহবিলের এক টাকাও বিতরণ হয়নি। এটি নিয়ে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণ বিতরণে অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনীহা, নাকি উদ্যোক্তাদের দিক থেকেই সাড়া মিলছে না—তা খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের কাছে এ তহবিল আরো সহজলভ্য করতে প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি, তাঁদের ব্যাবসায়িক লাইসেন্সের শর্ত শিথিল করাসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনীহার বিষয়টি স্পষ্ট। কারণ যারা এ তহবিল বিতরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করেছে, তাদের বেশির ভাগই ঋণ বিতরণ করেনি। বিষয়টি উদ্বেগজনক। তাই আমরা নতুনভাবে অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে এ তহবিলের আওতায় ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের অগ্রগতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যায়ন তুলে ধরে তাদের কাছে ব্যাখ্যা তলব করা হবে।’ শিগগিরই এ চিঠি পাঠানো হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে ২০১৪ সালের ৩ জুন কটেজ মাইক্রো ও ক্ষুদ্র খাতের নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ১০০ কোটি টাকার একটি পুনরর্থায়ন তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই বছরের ২৬ জুন এ বিষয়ে একটি বিশদ নীতিমালা জারি করা হয়। এরপর গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বিতরণে আগ্রহী বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কয়েক ধাপে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অংশগ্রহণমূলক চুক্তি করে। এ পর্যন্ত ৩৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ তহবিলের আওতায় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে ২৪টি ব্যাংক ও ১৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে এসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ১০টি পুনরর্থায়ন তহবিলের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বিতরণ করেছে। অন্যরা এ তহবিলের ঋণে কোনো আগ্রহই দেখায়নি। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনীহার পেছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, সেটি জানতে তহবিল গঠনের পাঁচ বছর পর সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিয়ে নতুনভাবে জানার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলছেন, প্রচার-প্রচারণার অভাব, ব্যাবসায়িক লাইসেন্স পেতে বিড়ম্বনা ও ঋণ পেতে জুড়ে দেওয়া শর্তের কারণেই নতুন উদ্যোক্তারা সেভাবে সাড়া দেননি। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ঋণ বিতরণ না হওয়ার পেছনে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে চলমান তারল্য সংকটও দায়ী। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের শর্তানুযায়ী, আগে নিজস্ব তহবিল থেকে ঋণ বিতরণ করতে হবে। এরপর সমপরিমাণ ঋণের জন্য আবেদনের পর পুনরর্থায়নের টাকা পাবে ব্যাংকগুলো।

সূত্র জানিয়েছে, ঋণ বিতরণে আশাব্যঞ্জক সাড়া না পাওয়ায় এক বছর না যেতেই তহবিলের ৫০ কোটি টাকা অন্য একটি তহবিলে স্থানান্তর করা হয়। ফলে এ তহবিলের আকার ৫০ কোটি টাকায় নেমে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, এ তহবিল চালুর পর থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০ কেটি ২১ লাখ টাকা। ওই সময় পর্যন্ত মাত্র ৩৬৭ জন উদ্যোক্তা এ তহবিলের সুবিধা নিয়েছেন। তিন মাস আগে জুন পর্যন্ত ঋণের স্থিতি ও সুবিধা গ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল একই। তবে এ তহবিলের ঋণের আদায় হার সন্তোষজনক। ২১ কোটি ২১ লাখ টাকার মধ্যে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আদায় হয়েছে ১৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। আদায়ের হার ৮৫.৭১ শতাংশ। ফলে বিতরণ না হওয়া অংশ ও আদায় মিলে এ তহবিলের ৪৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকাই এখন পড়ে আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে অর্থায়নই প্রধান সমস্যা। ফলে মেধা থাকার পরও প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে নতুনদের অনেকেই উদ্যোক্তা হতে পারেন না। এ ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে তেমন আগ্রহ দেখায় না। তাই উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজলভ্য করার লক্ষ্যে এ তহবিল গঠন করা হয়। এতে গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার নির্ধারণ করা হয় ১০ শতাংশ। যদিও সম্প্রতি আরেকটি সার্কুলারে নতুন নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এ তহবিলের সুদের হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা