kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

জার্মানিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অপপ্রচার চালাচ্ছে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কবিরোধীরা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অপপ্রচার চালাচ্ছে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কবিরোধীরা

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। ফাইল ছবি

ভারতের সঙ্গে যারা সুসম্পর্ক চায় না তারাই প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক নয়াদিল্লি সফর এবং ওই সফরে সই হওয়া চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি গতকাল শনিবার জার্মানিতে ডয়চে ভেলের বাংলা বিভাগকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান। গত বৃহস্পতিবার রাজশাহী সীমান্তে ‘বিজিবি-বিএসএফ গোলাগুলি’ ও এক বিএসএফ সদস্য ‘নিহত’ হওয়া প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো যেসব তথ্য দিচ্ছে তা সঠিক নয়।

ভুল বোঝাবুঝির কারণে গুলি চালানোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “তারাই (বিএসএফ) আমাদের এখানে এসেছে এবং এসে তারা বাহাদুরিও করেছে। আমাদের ছেলেদের (বিজিবি) তাদের ‘লাস্ট জব’ হিসেবে বাধ্য হয়ে গুলি করতে হয়েছে।”

ডয়চে ভেলে জানায়, গুলির বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এটা ‘ওয়ান ইনসিডেন্ট’ (একটা ঘটনা)। একটা ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমন ঘটেছে।”

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ওপর (জাতিসংঘ) মাতব্বরি করার কোনো কারণ নাই। আমরা ওদের (রোহিঙ্গা) কোথায় নিয়ে যাব কী না যাব সেটা আমাদের এখতিয়ার, তাদের না।’ তিনি বলেন, ‘আমি তাদের (জাতিসংঘ) দেশ ছাড়ার জন্য বলিনি। আমি বলেছি, আপনারা জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠানগুলো মিয়ানমারে গিয়ে বরং বেশি কাজ করেন, যাতে রোহিঙ্গারা স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করতে পারে। আমাদের অনেক উপদেশ দিয়েছেন। আমরা জানি আমরা কী করছি। আপনাদের উপদেশ আমরা চাই না।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগে শুক্রবার জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাসকে নিয়ে সংবাদ ব্রিফিংকালে বলেন, ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়া (ব্রেক্সিট) নিয়ে উন্নত দেশগুলোতে কোনো অনিশ্চয়তা দেখতে চায় না বাংলাদেশ।

মিয়ানমারকে চাপ দিতে জার্মানির প্রতি অনুরোধ : এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, দুই বছর আগে মিয়ানমারের সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসে। এদের দেশে ফেরানোর উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা একজন রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নেয়নি। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, ‘আমরা আপনাকে বলব, মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করুন, যাতে তারা তাদের লোকদের ফিরিয়ে নিয়ে যায়।’ জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে তুরস্ককে সিরিয়ায় সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানান।

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল শনিবার জানায়, গত শুক্রবার জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথমবারের মতো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চার দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত ভয়াবহ নৃশংসতার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জার্মানির সমর্থন চান।

‘আমরা দিয়েছি কিছু, সেই সঙ্গে পেয়েছিও কিছু’ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল ডয়চে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, সীমান্তে যেকোনো মৃত্যু অনাকাঙ্ক্ষিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে উষ্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার করা এবং তা অর্জিত হয়েছে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে বাংলাদেশ শুধু দিয়েই যাচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা শুধু ডাহা মিথ্যাই না, অনেকে নানা কথা বানিয়ে যাচ্ছে যারা বিষয়টি পছন্দ করছে না। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দিয়েছি কিছু এবং সেই সঙ্গে পেয়েছিও কিছু।’ তিনি বলেন, সম্পর্কের স্থিতিশীলতাই বড় পাওনা। সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কই বড় অর্জন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাহবা দেখানোর জন্য একসময় গঙ্গা ইস্যু আমরা জাতিসংঘে নিয়ে গেলাম। সাতাত্তর থেকে ছিয়ানব্বই পর্যন্ত ভারত এ নিয়ে এক পয়সার দামও দেয়নি বাংলাদেশকে।’

ফেনী নদী থেকে ভারতকে পানি তোলার সুযোগ দেওয়া প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফেনী নদী থেকে যে পানি দেওয়া হচ্ছে তা খুবই সামান্য। ১২৬ কিউসেকের মধ্যে এক দশমিক ৮২ কিউসেক অর্থাৎ এক ভাগেরও কম। মানবিকতার জন্যই বাংলাদেশ এই পানি দিচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা (ভারত) ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পাম্প দিয়ে পানি উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। এমনকি অধিক পানি নিয়ে যাচ্ছিল। এখন একটা কাঠামো তৈরি হয়েছে। (যার কারণে) তারা দায়বদ্ধ হয়েছে। তারা কিন্তু এখন ১ দশমিক ৮২ কিউসেকের বেশি নিতে পারবে না।’

উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাডার’ স্থাপন বিষয়ে কিছুই নির্ধারিত হয়নি। এ নিয়ে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক অবনতির সম্ভাবনা নাকচ করে তিনি বলেন, ‘আমরা চীন থেকে সাবমেরিন কিনেছিলাম। তখন ভারত যদি সাবমেরিন দিত আমরা ভারত থেকেও কিনতাম। ভারত তখন সাবমেরিন দিতে পারেনি, আমরা তাই চীন থেকে কিনেছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা