kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

ছাত্র হত্যায় ‘মা জানেন না তিনি বাদী’

সেই মাকে ডেকে থানায় সংবাদ সম্মেলন

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে নিহত স্কুলছাত্রের ‘মায়ের অজান্তে তাঁকে বাদী করে হত্যা মামলা দায়েরের’ ঘটনায় এবার সেই শোকগ্রস্ত মাকে দিয়ে থানার কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করালেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি আহম্মেদ কবির। এবার নিহত ছাত্র জায়দুল ইসলামের (১৬) মা নুরেজা পারভীন জানালেন, ছেলে আহত হওয়ার পর তিনিই হত্যাচেষ্টার মামলার বাদী হয়েছিলেন। অথচ এর আগে মামলাটি দায়েরের খবর শুনে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তিনি ছেলের চিকিৎসার কারণে ঢাকার থাকার কারণে ছেলে হত্যা বা হত্যাচেষ্টার কোনো মামলা দায়ের করেননি এবং কোনো কাগজেও স্বাক্ষর করেননি। গতকাল শনিবার থানার কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে ওসি নিজেই ওই মায়ের হয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর দেন।

অভিযোগ রয়েছে, মামলাটি ভিন্ন খাতে নেওয়া এবং প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে একটি রাজনৈতিক পক্ষ পুলিশকে দিয়ে তড়িঘড়ি করে মামলাটি দায়ের করায়, যাতে নিহত জায়দুলের মায়ের অজান্তেই তাঁকে বাদী করা হয়। ওই রাজনৈতিক পক্ষের উদ্দেশ্য নিজেদের অনুসারীদের বাঁচানো এবং প্রতিপক্ষ ও নিরপরাধ কিছু ব্যক্তিকে ফাঁসানো। তবে ওসি এ ঘটনা অস্বীকার করে বলেছেন, মা-ই মামলা দায়ের করেছেন। এ নিয়ে কালের কণ্ঠে গত শুক্রবার ‘নিহতের মা জানেন না তিনি মামলার বাদী’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। মামলাটি এভাবে দায়ের করতে গিয়ে জায়দুলের মা নুরেজা পারভীনের নামও ভুল করে নুরজাহান বলে উল্লেখ করা হয়।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে নিহত জায়দুলের মা, ভাই ও খালাসহ বেশ কয়েকজন উপস্থিত থাকলেও নিহতের বাবাকে দেখা যায়নি। প্রায় আধাঘণ্টাব্যাপী এই সম্মেলনে ওসি আহম্মেদ কবির নিজ চেয়ারে বসা ছিলেন। পাশে ছিলেন নুরেজা বেগমসহ অন্যরা। এ সময় ওসিকে নিহতের মাকে সাংবাদিকদের রাখা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সহায়তা করতে দেখা গেছে।

উপস্থিত সাংবাদিকরা নুরেজা পারভীনকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি তো জায়দুলের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তাহলে কখন মামলা করেছেন?’ এ প্রশ্নের উত্তরে নুরেজা বলেন, তাঁর বড় ছেলে তারেকুল ইসলাম এজাহারের কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছিল। ‘আপনি বলেছিলেন কোনো কাগজে স্বাক্ষর দেননি, এখন বলছেন স্বাক্ষর দিয়েছেন; তাহলে স্বাক্ষর দেওয়ার সময় আপনি কোথায় ছিলেন?’ এ প্রশ্নের উত্তরে নুরেজা পারভীন কিছু বলেননি। ‘আপনি তো নুরেজা পারভীন, আর মামলার এজাহারে বাদীর নাম লেখা হয়েছে নুরজাহান।’ এ প্রশ্নের উত্তর দেন ওসি। তিনি বলেন, নুরজাহানই নুরেজা পারভীন। একপর্যায়ে ওসি বলেন, ‘আমারও তো একটি নিক নেইম (ডাক নাম) আছে। নুরজাহানের তেমনি নিক নেইম নুরে জাহান।’ সাংবাদিকরা আরো প্রশ্ন করতে চাইলে জায়দুলের ভাই তারেকুল ইসলাম মাকে আর কথা বলতে দেননি। তবে একপর্যায়ে নুরেজা পারভীন বলেন, ‘আমি পরে তো হত্যা মামলা করিনি। আমি কিছুই বুঝি না, আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।’

জানা গেছে, উপজেলার দত্তপাড়া মহল্লার মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে জায়দুল ইসলাম (১৬) পৌর এলাকার শিমুলতলা মোড়ের প্রতিশ্রুতি মডেল হাই স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা। এ জন্য নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় অংশ নিতে গত মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে সে রিকশাযোগে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল। পথে বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ফিশারিসংলগ্ন স্থানে তার পথরোধ করে দুর্বৃত্তরা। তারা তাকে রিকশা থেকে নামিয়ে কিল-ঘুষি মেরে টেনেহিঁচড়ে সড়কে ফেলে দেয়। পরে তার গলায় ছুরি মেরে জখম করে। পরে আহত জায়দুল গত মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

এই অবস্থায় হামলাকারী হিসেবে ‘প্রধান অভিযুক্ত’ মশিউর রহমান কাঞ্চন (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এ ছাড়া গতকাল পর্যন্ত আর কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি আহম্মেদ কবির বলেন, ছাত্র নিহতের ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে যে মামলাটি করেছিলেন তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে থাকে। মিথ্যা প্রচার চালাতে থাকে। এ অবস্থায় সবার কাছে ঘটনাটি পরিষ্কার করতে নিহতের মা সাংবাদিকদের সামনে নিজেই স্বাক্ষর করে মামলা দায়ের করেছেন বলে স্বীকার করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা